মব সহিংসতায় চট্টগ্রামে নিহত কিশোর, অপরাধী মনে হচ্ছে না পুলিশে
- আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫ ২৭৬ বার পড়া হয়েছে
আতঙ্কের নাম ‘মব জাস্টিস’। বাংলাদেশে আইন হাতে তুলে নেবার প্রবণতা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন মাঝে মাঝেই মব সহিংসতার বলি হচ্ছে কেউ না কেউ। আইনের শাসনের দুর্বলতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মব জাস্টিসের নামে কাউকে গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছে, কারো বাড়ি-ঘরে ঢুকে লুটপাট করা হচ্ছে। কাউকে আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। কাউকে আবার জুতার মালা পরিয়ে কান ধরে উঠবস করানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে।
দলবদ্ধ হয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে কাউকে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার দেশটির চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তিন কিশোরকে চোর সন্দেহে বেঁধে প্রকাশ্যে পেটানোর সময় ঘটনাস্থলেই রিহান মহিন (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চেইঙ্গার সেতু এলাকার ঘটনা। পুলিশের ধারণা, পূর্বের বিরোধ থেকে চোর সন্দেহের নাটক সাজিয়ে পেটানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিশোর তিন বন্ধুসহ এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ করে পেটানো হয়েছে।
এ ঘটনায় রিহানের দুই বন্ধু মানিক ও মুহাম্মদ রাহাত গুরুতর আহত হয়। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, নিহত রিহান বাবার মুদিদোকানে সহযোগী হিসেবে কাজ করত। গতকাল তারা চট্টগ্রাম নগরে বেড়াতে যায়। রাতে তারা বাড়ি ফিরছিল।
তিনটার দিকে বাড়ির কাছে এলে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা সাত থেকে আটজন যুবক তাদের চোর আখ্যা দিয়ে ধাওয়া দেন। এরপর এ তিনজন দৌড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে যুবকেরা ধরে এনে সেতুর ওপর আনেন।
এরপর তিন কিশোরকে রশি দিয়ে বেঁধে ‘মব’ করে বেধড়ক মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রিহানের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা গুরুতর আহত মানিক ও রাহাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। আর দুপুরে রিহানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ মূল হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
একই গ্রামের যুবকেরা হামলা করায় এটিকে গণপিটুনি বা চোর সন্দেহ মনে হচ্ছে না। তাদের মধ্যে হয়তো কোনো বিরোধ বা শত্রুতা থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।



















