বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত তারেক রহমানের
- আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই দেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ঢাকায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার নীতিগত অগ্রাধিকার ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন তিনি। বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় স্বার্থই হবে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি।
পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং গঠনমূলক সহযোগিতার নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, দেশের মানুষের স্বার্থই সবার আগে। সেই স্বার্থকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করা হবে।

নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, সম্ভাব্য উসকানি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শান্ত ও দায়িত্বশীল আচরণ করায় তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না, উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থিতিশীলতা রক্ষা নতুন সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর একটি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইন সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আমাদের আদর্শ।
আইনের শাসন নিশ্চিত করতে না পারলে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে, মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে কোথাও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে থাকলে তা যেন প্রতিশোধ বা সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। নতুন সরকারের সামনে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তাঁর মতে, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জননিরাপত্তা জোরদার, এবং সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও রাজনীতিকরণমুক্ত করা এখন জরুরি দায়িত্ব। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তারেক রহমান জানান, জনগণের রায় পাওয়ার পূর্বেই রাষ্ট্র সংস্কারের একটি রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল বিএনপি।

বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে প্রণীত ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনা দলীয় ইশতেহারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও অবস্থানের সহাবস্থানই একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চা অব্যাহত থাকলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
সবশেষে তিনি বলেন, জনগণ যে আস্থা ও সমর্থন দেখিয়েছেন, তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল প্রয়াস প্রয়োজন। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পর এখন দেশ পুনর্গঠনের সময় বার্তা দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

















