বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস নির্মাণে তাঁর ছিল কেন্দ্রীয় ভূমিকা: যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকায় বিদেশি মিশনগুলোর শোক
বিদেশি মিশনগুলোর এসব শোকবার্তা আন্তর্জাতিক পরিসরে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ অবস্থানের স্বীকৃতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে
৪০ দিন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এসব মিশন খালেদা জিয়ার পরিবার, স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানায়।
এক শোকবার্তায় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে শোকাহত। বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস নির্মাণে খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান করেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তারা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করা হয়।
ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাজ্য হাইকমিশন তাদের শোকবার্তায় জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ের সংবাদে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।

দীর্ঘ ৪০ দিন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসা খালেদা জিয়া চার দশকেরও বেশি সময় বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্ব দেন। তিন মেয়াদে দশ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসও। তাদের বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রুশ দূতাবাস গভীরভাবে শোকাহত। তিন মেয়াদে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁর পরিবার, বন্ধু ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।
এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এক শোকবার্তায় জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে জাপান গভীর শোক প্রকাশ করছে। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।
জাপানি রাষ্ট্রদূত স্মরণ করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেগম খালেদা জিয়া দুইবার জাপান সফর করেন এবং জাপান–বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর নিবেদিত অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হবে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
বিদেশি মিশনগুলোর এসব শোকবার্তা আন্তর্জাতিক পরিসরে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ অবস্থানের স্বীকৃতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















