বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য আয়োজনে মাতলো ডিআরইউ
- আপডেট সময় : ১০:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ২১২ বার পড়া হয়েছে
ঢাকায় কর্মরত রিপোর্টারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সংগঠনটির প্রতিটি অনুষ্ঠানই নান্দনিকতাকে স্পর্শ করে। সংগঠনটি গোড়া থেকেই জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালার ক্যানভাসে পরিণত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে এবারের ডিআরইউ ফ্যামেলী ডে প্রতিটি সদস্যকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে সোনামণিদের জন্য নানা আয়োজন মা-বাবাকে তৃপ্তি দিয়েছে। একথায় গোটা পরিবারই নান্দনিক আয়োজন উপভোগ করেছেন।
সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দুয়ারে হাজি বাংলা নববর্ষ তথা পহেলা বৈশাখ। সোমবার ডিআরইউ প্রাঙ্গণে বর্নিল আয়োজনে মাতলো সবাই। ইটপাথরের নগরনীতে বৈশাখের আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়। বরাবরের মতোই নতুনত্বকে ধারণ করে প্রতিটি আয়োজন সাজানো হয়ে থাকে। এবারেও সেই ধারাবাইহকতার কমতি ছিলো না।

দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনি টানতে গিয়ে সভাপতি আবু সালে আকনের বিনয় কণ্ঠে উচ্চারিত হলো, কয়েক বছর নানা কারণেই ডিআরইউ পহেলা বৈশাখ তথা বর্ষবরণ আয়োজন থেকে পিছিয়ে ছিলো। এবারের আয়োজনে আমরা চেষ্টা করেছি সবাইকে এক করার। ভালোর সঙ্গে মন্দেরও পথ চলা তা আমাদের সম্মানিত সদস্যরা জানেন। কোন সদস্যের কষ্ট আমাদের হৃদয়ে রক্ষরণ হয়। আগামীর অনুষ্ঠানগুলো আরও বড় এবং আরও জাকজমক করার চেষ্টা করবো-প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আবু সালে আকন।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, দীর্ঘ সময় পর ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। ভয়হীন-বাধাহীন বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা নিকট অতীতের সর্ববৃহৎ ব্যতিক্রমী আয়োজন। সেই ধারাবাহিকতায় ডিআরইউও বর্ষবরণের আয়োজন থেকে পিছিয়ে নেই। আগামীর অনুষ্ঠান আরও বড় আকারে আয়োজনের আকাঙ্খার কথা জানান মাইনুল হাসান সোহেল।
ডিআরইউ বর্ষবরণ আয়োজনের জন্য সাংস্কৃতিক সম্পাদক এমদুল হক খান আহ্বায়ক এবং আপ্যায়ণ সম্পাদক সলিমউল্লাহ মেজবাহ সদস্য সচিবের দায়িত্ব ছিলেন।
আবহমান বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সঙ্গীতায়োজনে মেতে ছিলো সবাই। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সদস্য, সন্তান ও অতিথি শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে টানা বিকাল চারটা পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এমন ফুরফুরে আয়োজনের সঙ্গী ছিলো মুড়ি-মোয়া, নকুলদানা, মুড়কি, মুড়ালি, কদমা আর বাতাসা। এখানেই শেষ নয়। দুপুরে ডিআরইউ ক্যান্টিনে সাদা ভাত, ডিম, মুরগী, মাছ, বেগুন ভাজা, শুটকি ভর্তা, সবজি ও আম ডাল পরিবেশন করা হয়।
দিনজুড়ে আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন, সিনিয়র সদস্য ছাড়াও সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ। আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলে সঞ্চালনায় সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন মাসুম, মনির হোসেন লিটন, রাজু আহমেদ, কবির আহমেদ খান, মশিউর রহমান খান, সহসভাপতি গাযী আনোয়ার।
যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, অর্থ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাই তুহিন, দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, নারী বিষয়ক সম্পাদক রোজিনা রোজী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো. বোরহান উদ্দীন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, কল্যান সম্পাদক রফিক মৃধা, আপ্যায়ন সম্পাদক মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ (মেজবাহ)।

কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ জুনায়েদ হোসাইন (জুনায়েদ শিশির), আকতারুজ্জমান, আমিনুল হক ভূঁইয়া, মো: ফারুক আলম, সুমন চৌধুরী ও মোঃ সলিম উল্ল্যা (এস. ইউ সেলিম) সহ ডিআরইউ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক এমদুল হক খানের উপস্থাপনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন, অতিথি বাউল শিল্পী লাভলী শেখ, ফারজানা ইভা, রেখা সুফিয়ান, ডিআরইউ সদস্য রেজা করিম, ইসারফ হোসেন ইসা, বিপ্লব বিশ্বাস, সদস্য সন্তান নাবিদ রহমান তুর্য, নওশীন তাবাসসুম তৃণা, আরিশা আরিয়ানা, সানদিহা জাহান দিবা, মুয়ান্তিকা রহমান সানাইয়া, মায়াবী রায়, অনুদীপ রায়, শ্রদ্ধা রায় প্রমুখ গান পরিবেশন করেন।
সবশেষ বলতে হয় বর্ষবরণের সাজসজ্জা নিয়ে। সাজসজ্জায় ছিলো লোকজ সংস্কৃতির উপকরণ। ডিআরইউ প্রাঙ্গণ দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের অনেকেই একদন্ড দাঁড়িয়ে সাজসজ্জা দেখে গিয়েছেন। ডিআরইউ বর্ষবরণের আয়োজন ঘিরে প্রাঙ্গণে ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়।



















