ভারতীয় ঋণে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ শহরদ এম মনসু আলী স্টেশন পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি
- আপডেট সময় : ০৭:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৫০৭ বার পড়া হয়েছে
বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ শহরদ এম মনসু আলী স্টেশন পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তিভারতের দীর্ঘ মেয়াদী ঋণে (এলওসি) বাংলাদেশ রেল খাতে ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে চলছে। যার মধ্যে ৯টি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। অন্যান্য প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এবারে হাতে নেওয়া হয়েছে, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ
ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ভারত সরকারের ক্রেডিট লাইন-৩ এর অধীনে। ৬৭২.৫৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রক এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ হলে ঢাকার সঙ্গে বগুড়ার দূরত্ব কমবে প্রায় ৭২ কিলোমিটার। আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এ অঞ্চলের মানুষ ।

উত্তরাঞ্চল মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এই রেলপথ। বর্তমানে বগুড়ার সান্তাহার জংশন হয়ে নাটোর, পাবনা, ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পারি দিতে হয়। তিন জেলা ঘুরে ঢাকা পৌঁছাতে সময় লেগে যায় প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা। সেই সঙ্গে পাড়ি প্রায় ৪০৫ কিলোমিটার পথ। তাতে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লেগে যায় প্রায় ৯ ঘণ্টা। এ ছাড়া বগুড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত সড়ক পথে ২২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাসে ঢাকা যেতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত ৮৪ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
র মধ্যে বগুড়ার সীমানায় ৫২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৫১০ একর এবং সিরাজগঞ্জ অংশের ৩২ কিলোমিটার অংশের জন্য ৪৫০ একর জমি। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে। ভারতীয় ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে। সে কারণে পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশের রেলপথের অবকাঠামোর আরও আধুনিকীকরণ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রেল যোগাযোগ উন্নততর করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ভারত সরকারের সহজ শর্তে দেয়া ঋণচুক্তির আওতায় বগুড়া থেকে শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেশন, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত একটি নতুন সরাসরি রেলসংযোগ স্থাপিত হবে। ভারতীয় এক্সিম ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এই তহবিল বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ভারতীয় পরামর্শদাতা সংস্থার (RITES লিমিটেড এবং
আরভি অ্যাসোসিয়েটসের যৌথ উদ্যোগ) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী বিক্রম দোরাইস্বামী।
বাংলাদেশ রেলওয়ের রেল ভবনে অনুষ্ঠিত চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের রেল মন্ত্রক, ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকা, এক্সিম ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, ঢাকা কার্যালয়, RITES লিমিটেড এবং আরভি অ্যাসোসিয়েটস আর্কিটেক্টস ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসাল্টেশন্স প্রাইভেট লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরামর্শ পরিষেবার মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিস্তারিত ইঞ্জিনিয়ারিং নকশা এবং সেতু, বাঁধ, রেলপথ, স্টেশন, সিগন্যালিং এবং অন্যান্য সমস্ত স্থপনার নকশা অঙ্কন, যাত্রাপথ নির্ধারণ, গাণিতিক মডেলিং, টেন্ডারিং এবং নির্মাণ তত্ত্বাবধান পরিষেবা।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন চূড়ান্ত হয়ে গেলে, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ডুয়েল গেজ প্রধান লাইন এবং লুপ লাইন নির্মাণের পাশাপাশি স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, সেতু, একটি প্রশাসনিক স্থাপনা, বাতি স্থাপন, ওভারহেড সাইন স্ট্রাকচার এবং ট্র্যাক বিছানোর কাজ সম্পন্ন হবে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পর, রাজধানী ঢাকা হয়ে বাংলাদেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল এবং পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত ডুয়াল গেজ সংযোগ স্থাপন হবে। এই নতুন রেলপথ প্রায় ১১২ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে। ফলে ঢাকা থেকে উত্তরের জেলাগুলিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রায় তিন ঘন্টা সাশ্রয় হবে। এটি নির্বিঘ্নে ব্রডগেজ এবং মিটারগেজ ট্রেন চলাচল সহজতর করবে এবং দ্রুত ও উচ্চমানের যাত্রী পরিষেবা প্রদান করবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ঐতিহাসিক। পাকিস্তান ২৩ বছরে পূর্বাঞ্চলে রেলের কোন উন্নয়ন করেনি। বর্তমান সরকার একে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে। ৭৫ সালে, জাতির পিতার হত্যাকান্ডের পর রেল সব সময়ই অবহেলিত ছিলো। কোলকাতা মুখি রেল ঢাকা মুখি করায়, পূর্বাঞ্চলে কোন উন্নয়ন হয়নি। প্রতিবেশী দেশগুলো হতে, রেল পিছিয়ে পরছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথটি বাংলাদেশের উত্তরজনপদের আর্শীবাদ মনে কর হচ্ছে। এটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে রংপুর বিভাগের সকল জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ শহীদ মনসুর আলী রেল স্টেশন পর্যন্ত ডুয়ালগেজ রেল লাইন নির্মান এ সমীক্ষা যাচাই, বিশদ নকশা প্রণয়ন, ম্যাথমেটিক্যাল মডেলিং এবং নির্মান কাজে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ভারতের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে একথা বলেন রেলপথ মন্ত্রী। প্রকল্পে সাড়ে ৮৬ কিলোমিটার ডুয়াল গেজ রেল লাইন, ১৬ কিলোমিটার লুপ লাইন নির্মাণ হবে।

ভারতের রাইট লিমিটেড এবং আরভি এসোসিয়েট জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে
ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট ও বাংলাদেশ সরকারের মোট অর্থায়ন ৫ হাজার ৫ শ ৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতের এক্সিম ব্যাংক এর ঋণ, ৩ হাজার ১ শ ৪৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উত্তরাঞ্চলে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি হবে এবং ঢাকা বগুড়ার দূরত্ব কমবে ৩ ঘন্টায়।
ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাই স্বামী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে রেল যোগাযোগ অগ্রাধিকার পেতো, এখনকার সরকারও তেমনি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্র্যাক্ট এর উন্নয়নের রেলপথে যাত্রী সেবা, কর্গো সেবা বাড়াচ্ছে। রেলওয়ে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ড্রাইভিং ইঞ্জিন। ভারত-বাংলাদেশ রেলওয়ে যোগাযোগের ইতিহাস বেশ পুরনো। রেলের উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারত-বাংলাদেশের এক সঙ্গে কাজ করবে। রেল সচিব সেলিম রেজা বলেছেন, এই প্রকল্পর রেল লাইনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এটি বাস্তবায়ন হলে, উপকৃত হবে রেল। মান সম্মত নির্মান কাজ হবে, বলেই আশাবাদী রেল সচিব।



















