ফেনীতে তরমুজ চাষ কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
- আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
ফেনীর কৃষি খাত নতুন সম্ভাবনার মুখ দেখছে। জেলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে তরমুজের বাণিজ্যিক আবাদ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ের উৎসকে বহুগুণে বৃদ্ধি করছে। চলতি মৌসুমে জেলার ১,২৯৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের ৭৭৪ হেক্টরের তুলনায় ৫২৫ হেক্টর বেশি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১,৯৬০ মেট্রিক টন।
উপজেলার চরচান্দিয়া, চর দরবেশ, সোনাগাজী সদর, নবাবপুর ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের কৃষকরা ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, গ্লোরি ড্রাগন, ব্ল্যাক জায়ান্ট, ব্ল্যাক বেরি, ভিক্টর সুগার ও ওশান সুগারসহ দেশি-বিদেশি উচ্চ ফলনশীল জাতের তরমুজ চাষ করছেন। চাষিরা জানান, চরাঞ্চলের উর্বর মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়া তরমুজ চাষকে লাভজনক করে তুলেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনী কার্যালয় জানিয়েছে, গত মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত তরমুজের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি গড়ে ৫০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে সম্ভাব্য বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক সূচক।

তবে চাষের সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও জড়িয়ে আছে। ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসাপুর ক্লোজার ভেঙে যাওয়ায় জোয়ারের লবণাক্ত পানি ফসলের জমিতে প্রবেশ করছে। কৃষকরা দ্রুত ক্লোজার পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের এ ঝুঁকি মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
২০১৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া তরমুজ চাষ এখন পুরো জেলার কৃষি অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় এই আবাদ সম্প্রসারণ চলতে থাকলে ফেনী জেলা কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির একটি শক্তিশালী মডেল হিসেবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।


















