ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে

প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিচার বিভাগের শীর্ষে অভিজ্ঞতা ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায়

রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদে অভিষিক্ত হলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারাঙ্গণে শুরু হলো অভিজ্ঞতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার এক নতুন অধ্যায়। রোববার  (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার শপথ বাক্য পাঠ করান।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে যে রদবদল ও সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় বিচার বিভাগের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় বিদায়ী হন সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, যিনি পরিবর্তনকালীন সময়ে বিচার বিভাগের হাল ধরেছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। এর আগে বুধবার সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়।

১৯৬১ সালের ১৮ মে জন্ম নেওয়া জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিচারাঙ্গণের এক সুপরিচিত নাম। তার পিতা প্রয়াত এ এফ এম আবদুর রহমান চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর স্থায়ী হন।

দীর্ঘ সময় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরও রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি আপিল বিভাগে পদোন্নতি পাননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিচার বিভাগেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে ১০ আগস্ট পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

সেদিনই জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। দুই দিন পর বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ চারজন বিচারককে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগে উন্নীত করা হয় এবং ১৩ আগস্ট তারা শপথ নেন।

সংবিধান অনুযায়ী বয়সসীমা বিবেচনায় বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০২৮ সালের ১৮ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।

বর্তমানে তার সঙ্গে আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দক্ষতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নতুন প্রধান বিচারপতির ভূমিকার দিকে এখন তাকিয়ে দেশবাসী ও আইনাঙ্গন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

আপডেট সময় : ১১:১৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বিচার বিভাগের শীর্ষে অভিজ্ঞতা ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায়

রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদে অভিষিক্ত হলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারাঙ্গণে শুরু হলো অভিজ্ঞতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার এক নতুন অধ্যায়। রোববার  (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার শপথ বাক্য পাঠ করান।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে যে রদবদল ও সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় বিচার বিভাগের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় বিদায়ী হন সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, যিনি পরিবর্তনকালীন সময়ে বিচার বিভাগের হাল ধরেছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। এর আগে বুধবার সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়।

১৯৬১ সালের ১৮ মে জন্ম নেওয়া জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিচারাঙ্গণের এক সুপরিচিত নাম। তার পিতা প্রয়াত এ এফ এম আবদুর রহমান চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর স্থায়ী হন।

দীর্ঘ সময় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরও রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি আপিল বিভাগে পদোন্নতি পাননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিচার বিভাগেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে ১০ আগস্ট পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

সেদিনই জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। দুই দিন পর বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ চারজন বিচারককে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগে উন্নীত করা হয় এবং ১৩ আগস্ট তারা শপথ নেন।

সংবিধান অনুযায়ী বয়সসীমা বিবেচনায় বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০২৮ সালের ১৮ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।

বর্তমানে তার সঙ্গে আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দক্ষতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নতুন প্রধান বিচারপতির ভূমিকার দিকে এখন তাকিয়ে দেশবাসী ও আইনাঙ্গন।