পাথরও নিরাপদ নয় : ২০০ কোটি টাকার পাথর লুট
- আপডেট সময় : ০১:০০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫ ২০২ বার পড়া হয়েছে
সাদাপাথর কোয়ারি থেকে শত কোটি টাকার পাথর লুট করে দুর্বৃত্তরা
এক বছরে সিলেট থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকারও বেশি
নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র সিলেটের ভোলাগঞ্জ। উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। মূলত ভারত থেকেই জলপথে পাথর আসে বাংলাদেশে। এ যেন প্রকৃতির অমূল্যসম্পদ।
মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে বাংলাদেশের ভোলাগঞ্জের অবস্থান। নৈসর্গিক ভোলাগঞ্জে প্রতিনিয়ত হাজারো কোন পর্যটক আসেন এবং মনপ্রাণ শিতল করে দিনশেষে ফিরে আসেন।
এখানের অন্যতম সৌন্দর্য্যরে অংশ সাদা পাথর। এই সাদা পাথরে পর্যটকরা বসেন, ছবি তোলেন। এই সাদা পাথর পর্যটকদের কাছে স্মৃতির স্মারক।
অথচ এই সাদাপাথরও নিরাপদ নয়। একদল দুর্বৃত্ত রাতের আঁধারে লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত জামায়াতের একনেতাকেও আটক করে পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাতে ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হাবীব বাদী হয়ে মামলা করেন। অজ্ঞাতনামা দুই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
সাদাপাথর কোয়ারি থেকে শত কোটি টাকার পাথর লুটের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকা শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি একটি সরকারি গেজেটভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পাথর কোয়ারি। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে কোয়ারি থেকে কোটি কোটি টাকার পাথর উত্তোলন ও লুটপাট করছে। জড়িতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি।
এই লুটপাট খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এবং খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা, ২০১২-এর পাশাপাশি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৯ ও ৪৩১ ধারারও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পুলিশকে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মামলা দায়েরের পরপরই অভিযানে মাঠে নামে পুলিশ এবং পাঁচজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় বা চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতাদের ধরতে অভিযান চালবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক বছরে সিলেট থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকারও বেশি।
লুট হওয়া পাথরের মধ্যে ১ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। অবৈধ পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।



















