নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার: সিআরএফ জরিপ
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে চান দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার-এমন তথ্য উঠে এসেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) পরিচালিত এক জাতীয় জরিপে। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো ভোট দেওয়ার বিষয়ে অনিশ্চিত বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেননি।
আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে শীর্ষক এই মতামত জরিপটি সিআরএফ ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ যৌথভাবে পরিচালনা করেছে। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী।
জরিপ অনুযায়ী, ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। এতে দেখা যায়, ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। অন্যদিকে, ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তাঁরা দল ও প্রার্থী উভয়কেই বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেবেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে প্রভাবশালী ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে দুর্নীতি। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ভোটের সিদ্ধান্তে ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করবেন বলে মত দিয়েছেন।
এ ছাড়া ভোটারদের কাছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা এই বিষয়গুলোও ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক পছন্দের বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে পছন্দ করছেন। একই সঙ্গে ২৯ শতাংশ ভোটার জামায়াতের প্রতি ঝুঁকছেন। এ ছাড়া ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এনসিপি এবং ১৩ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করছেন বলে জানিয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ২ দশমিক ৪ শতাংশ এখনো কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
সার্বিকভাবে জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের আগ্রহ অত্যন্ত উচ্চ এবং দুর্নীতি, অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



















