নির্বাচনের আলোচনায় থাকা পরিচিত মুখদের অনেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশা অনুযায়ী ফল পাননি। জাতীয় রাজনীতি, টকশো, সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা বা আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় থাকা এই প্রার্থীরা ভোটের মাঠে ব্যর্থ হয়েছেন।
পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। ধানের শীষ প্রতীকে নওশাদ ২২ হাজার ১৩৪ ভোট পেয়েছেন, আর সারজিস আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ১৯৯ ভোট। ঢাকা-৯ আসনে সাবেক এনসিপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়েও বিএনপির হাবিবুর রশিদের কাছে হেরে গেছেন। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট।
ঢাকা-৮ আসনের আলোচিত প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী ৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরে গেছেন। বিএনপির মির্জা আব্বাস ১০৯ কেন্দ্রে ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়েছেন, আর পাটওয়ারীর মোট ভোট পড়েছে ৫৪ হাজার ১২৭। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন; বিএনপির নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ভোট ৯৭ হাজার ৭৯০, আর শিশির মনির পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮৫৮ ভোট।
বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ প্রায় ২১ হাজার ভোট ব্যবধানে হেরে গেছেন বিএনপির জয়নাল আবেদীনের কাছে। জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট, আর ব্যারিস্টার ফুয়াদ ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট। ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবদিনের কাছে হেরে গেছেন; জয়ী জয়নাল আবদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়েছেন, আর মঞ্জু পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট।
ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাবশালী মামুনুল হক হেরে গেছেন বিএনপির ববি হাজ্জাজের কাছে। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগারের কাছে হেরে গেছেন, ভোট ব্যবধান ২ হাজার ৭০২।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীকে মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়েছেন এবং জামানত হারিয়েছেন।
ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের সাইফুল আলম বিএনপি সমর্থিত সাইফুল হককে ২২ হাজার ১৮০ ভোট ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন।
ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন ধানের শীষ প্রতীকের আমিনুল হককে পরাজিত করেছেন, ভোট ব্যবধান ৩ হাজার ৩৬১।
এভাবে নির্বাচনে আলোচনায় থাকা অনেক পরিচিত মুখ ভোটের মাঠে হারলেও, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা বিভিন্ন আসনে জয় নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করছে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক আলোচনায় থাকার পাশাপাশি দলীয় কাঠামো ও স্থানীয় সমীকরণই মূল জয় নির্ধারণ করে।


















