নির্বাচনী ব্যয়ে ভিন্ন পথ: তারেকের অর্থ নিজস্ব আয় থেকে, শফিকুরের ভরসা দল, নাহিদের গণ-অনুদান
- আপডেট সময় : ১২:১২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনী ব্যয়ে ভিন্ন পথ: তারেকের অর্থ নিজস্ব আয় থেকে, শফিকুরের ভরসা দল, নাহিদের গণ-অনুদান: গ্রাফিক্স সংগ্রহ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় এবং সেই ব্যয়ের উৎস নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামা ও নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের সম্ভাব্য অর্থের উৎসসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় রাজনৈতিক দল ও নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ব্যয় নির্বাহের কৌশলে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি সংসদীয় আসন-বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ থেকে প্রার্থী হয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তিনি দুই আসনে মোট ৬০ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য হিসাব দিয়েছেন, যা পুরোপুরি আসবে তাঁর নিজস্ব আয় থেকে। কৃষি খাত ও ব্যাংক আমানতই তাঁর ব্যয়ের প্রধান উৎস। ভোটারসংখ্যা বিবেচনায় আইনি সীমার মধ্যেই এই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।
একই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ৫১ লাখ টাকার ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ব্যবসা, কৃষি আয়, পরামর্শক সেবা, সম্মানী ও ব্যাংক মুনাফা থেকে এই ব্যয় নির্বাহ করবেন তিনি। হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয় ও সম্পদের বিবরণও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী ব্যয়ে দলীয় তহবিল বড় ভূমিকা রাখছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচন করছেন। তিনি নিজের নগদ ও ব্যাংক জমা থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করলেও তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ—৩৫ লাখ টাকা—আসবে দলীয় তহবিল থেকে। এই অর্থ মূলত দলের সদস্যদের নিয়মিত অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছেন। তাঁর ব্যয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে ব্যক্তিগত ব্যবসা, ভাইবোন ও আত্মীয়বহির্ভূত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছা অনুদান এবং দলীয় তহবিল।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী ব্যয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচন করছেন। তাঁর মূল ভরসা ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-অনুদান। সারা দেশের জনসাধারণের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনার কথা তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন মাত্র ১ লাখ টাকা।
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনও রংপুর-৪ আসনে নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। নির্বাচন শেষে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও সেই হিসাব বাস্তবে যাচাই বা তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা নির্ধারিত সীমার কয়েক গুণ বেশি ব্যয় করেছেন।
সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নির্বাচনে অর্থের প্রভাব উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ব্যয় কঠোর নজরদারির আওতায় না আনলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।


















