ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘ-হাতি শিকারে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা নির্বাচনী মাঠে এখনো সমান সুযোগ, সম্প্রীতির বাংলাদেশই লক্ষ্য: প্রেস সচিব ইসলামী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে টেকসই উন্নয়ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সূচনা মাদুরোর নজির টেনে কাদিরভের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আহ্বান জেলেনস্কির এবার পাতানো নির্বাচন হবে না: কড়া বার্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনের মোদিকে শায়েস্তা করতে ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ? ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ৭ লাখ ২৮ হাজার প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে ইসি এলপিজি ঘিরে নীরব অর্থনৈতিক সন্ত্রাসে জিম্মি ভোক্তা, কঠোর পদক্ষেপের দাবি ইসমত শিল্পীর কবিতা ‘অশ্রুবাষ্প’ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড নীতিতে বাংলাদেশ: সর্বোচ্চ গুণতে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা

নববর্ষে শুভসংবাদ: জ্বালানি তেলের দাম কমলো

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

নববর্ষে শুভসংবাদ: জ্বালানি তেলের দাম কমলো: ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নতুন বছর ২০২৬ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দেশের ভোক্তাদের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। জানুয়ারি মাসের জন্য সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা করে কমিয়েছে সরকার। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চারটি পণ্যের ক্ষেত্রেই এ মূল্যহ্রাস কার্যকর হয়েছে, যা পরিবহন, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকা, কেরোসিনের দাম হয়েছে ১১৪ টাকা। একইভাবে পেট্রলের দাম লিটারে ২ টাকা কমে ১১৮ টাকা এবং অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় এ সমন্বয় করা হয়েছে। গত বছরের মার্চ মাস থেকে এই পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে, যার ফলে প্রতি মাসেই বিশ্ববাজারের দামের ওঠানামার সঙ্গে মিল রেখে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্র অনুযায়ী, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল, যা প্রধানত কৃষি সেচ, পরিবহন খাত ও জেনারেটরে ব্যবহৃত হয়। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের মাধ্যমে।

বিপিসি জানায়, পেট্রল ও অকটেন বিক্রিতে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত লাভ করে। বিপিসির মোট লাভ-লোকসান মূলত ডিজেল বিক্রির ওপরই নির্ভরশীল। আগে জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করত বিপিসি। বর্তমানে এসব জ্বালানির দাম নির্ধারণ করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অন্যদিকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাতে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়। এই ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমবে এবং বাড়লে সে অনুযায়ী সমন্বয় হবে—যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নববর্ষে শুভসংবাদ: জ্বালানি তেলের দাম কমলো

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছর ২০২৬ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দেশের ভোক্তাদের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। জানুয়ারি মাসের জন্য সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা করে কমিয়েছে সরকার। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চারটি পণ্যের ক্ষেত্রেই এ মূল্যহ্রাস কার্যকর হয়েছে, যা পরিবহন, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকা, কেরোসিনের দাম হয়েছে ১১৪ টাকা। একইভাবে পেট্রলের দাম লিটারে ২ টাকা কমে ১১৮ টাকা এবং অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় এ সমন্বয় করা হয়েছে। গত বছরের মার্চ মাস থেকে এই পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে, যার ফলে প্রতি মাসেই বিশ্ববাজারের দামের ওঠানামার সঙ্গে মিল রেখে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্র অনুযায়ী, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল, যা প্রধানত কৃষি সেচ, পরিবহন খাত ও জেনারেটরে ব্যবহৃত হয়। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের মাধ্যমে।

বিপিসি জানায়, পেট্রল ও অকটেন বিক্রিতে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত লাভ করে। বিপিসির মোট লাভ-লোকসান মূলত ডিজেল বিক্রির ওপরই নির্ভরশীল। আগে জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করত বিপিসি। বর্তমানে এসব জ্বালানির দাম নির্ধারণ করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অন্যদিকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাতে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়। এই ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমবে এবং বাড়লে সে অনুযায়ী সমন্বয় হবে—যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।