ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

দেশে ফিরেই প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

দেশে ফিরেই প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানালেন তারেক রহমান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকায়  ফিরেই  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.  মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  দেশে ফিরে বিমান বন্দরে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পরই তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করেন। ফোনালাপে তারেক রহমান প্রথমেই অধ্যাপক ইউনূসের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

একই সঙ্গে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তাঁর দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান। দলের নেতারা বলছেন, এটি ছিল সৌজন্যমূলক ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁর বহনকারী বিমান হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। এর আগে, গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে পূর্বপরিচিতি ও যোগাযোগ রয়েছে। গত ১৭ জুন লন্ডন সফরের সময় ইউনূস তারেক রহমানের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সে সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপি ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদের ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফেনী–১, বগুড়া–৭ এবং দিনাজপুর–৩ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া–৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি, আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ একাধিক মামলায় তিনি অব্যাহতি পান।

ফলে দেশে ফিরে তাঁর গ্রেফতার হওয়ার কোনো আইনি ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, দেশে ফিরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের এই ফোনালাপকে রাজনৈতিক সৌজন্য, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক যোগাযোগের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দেশে ফিরেই প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৭:০১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকায়  ফিরেই  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.  মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  দেশে ফিরে বিমান বন্দরে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পরই তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করেন। ফোনালাপে তারেক রহমান প্রথমেই অধ্যাপক ইউনূসের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

একই সঙ্গে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তাঁর দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান। দলের নেতারা বলছেন, এটি ছিল সৌজন্যমূলক ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁর বহনকারী বিমান হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। এর আগে, গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে পূর্বপরিচিতি ও যোগাযোগ রয়েছে। গত ১৭ জুন লন্ডন সফরের সময় ইউনূস তারেক রহমানের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সে সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপি ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদের ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফেনী–১, বগুড়া–৭ এবং দিনাজপুর–৩ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া–৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি, আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ একাধিক মামলায় তিনি অব্যাহতি পান।

ফলে দেশে ফিরে তাঁর গ্রেফতার হওয়ার কোনো আইনি ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, দেশে ফিরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের এই ফোনালাপকে রাজনৈতিক সৌজন্য, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক যোগাযোগের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।