তিন বছরে খাদ্যে স্বনির্ভরতার লড়াই: মাঠে নামছে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন
- আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
দেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর করার প্রত্যয়ে তিন বছরের একটি রূপরেখার পরিকল্পনা বাস্তাবায়নে মাঠে নামবে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের পতিত চর ও অনাবাদি জমি বন্দোবস্ত নিয়ে সেগুলোকে উৎপাদনের আওতায় আনা হবে।
লক্ষ্য চাল আমদানিনির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, গবাদিপশু ও মৎস্য খাতে নজির স্থাপন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা।
ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ ও সমন্বিত বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই দেশে খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
তিনি জানান, উপকূলীয় চরাঞ্চলে ধান, ভুট্টা, ডাল ও তেলবীজের চাষ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গবাদিপশু পালনে সমবায়ভিত্তিক খামার গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

ফাউন্ডেশনের দাবি, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ভোক্তা পর্যায়ে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমান বাজার দরের তুলনায় দুধের দাম কমপক্ষে ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে।
সবজি ও মাছের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি ও মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ, মানসম্মত বীজ ও খাদ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং সরাসরি বাজারসংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চরাঞ্চলে টেকসই বাঁধ ও সেচব্যবস্থা গড়ে তুলে সারা বছর উৎপাদন চালু রাখার কৌশলও রয়েছে রূপরেখায়।
ফাউন্ডেশনের নেতারা বলছেন, কৃষকবান্ধব নীতি ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং লাভবান হবেন প্রান্তিক কৃষকরা।

সাহাবুদ্দিন ফরাজি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, এই বিশ্বাস থেকেই আমরা উৎপাদনের লড়াইয়ে নেমেছি। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার কৃষক ইতোমধ্যে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
ক্লাস্টারভিত্তিক তথা (ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সমষ্টি) উৎপাদনের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন শুধু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই নয়, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও বড় ভূমিকা রাখবে। চাল আমদানি বন্ধ করতে পারলে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি পশুপালন ও মৎস্য খাতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

সার্বিকভাবে, তিন বছরের এই রূপরেখাকে কেন্দ্র করে দেশের কৃষকদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিবর্তন আনতে পারলে খাদ্যে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে, এমনটাই বিশ্বাস বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন-এর নেতাদের। এখন দেখার বিষয়, পরিকল্পনা কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাহাবুদ্দিন ফরাজী বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে আমরা তিন বছরের একটি রূপরেখা হাতে নিয়েছি। বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সারাদেশে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থার সংস্কার, চাষাবাদের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও চরগুলোয় থাকা পতিত জমি লিজ দেওয়া দাবি করেন।
কর্মসূচির প্রথম বছরে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের ব্যবহার বাড়ানো, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি সার, বীজ ও কৃষিঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে।

দ্বিতীয় বছরে উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণে গ্রামীণ গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষক-ভোক্তা সংযোগ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তৃতীয় বছরে কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, রপ্তানি সম্ভাবনাময় ফসলের চাষ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের জন্য ডিজিটাল বাজার তথ্যব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও তরুণ কৃষকদের সম্পৃক্ত করে টেকসই কৃষি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
সভাপতি সাহাবুদ্দিন ফরাজী বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন শুধু কৃষকের নয়, পুরো জাতির দায়িত্ব। সংগঠনটি আশা করছে, সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে আগামী তিন বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে। এ জন্য বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকান্ড গতিশীল করতে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।










