ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

ডুবে যাওয়া টাইটানিকে বসত করে ‘ভয়ঙ্কর’ প্রাণী, ভাঙা জাহাজের লোহা খেয়েই বেঁচে থাকে!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩ ২৮০ বার পড়া হয়েছে

সমুদ্রের ১০ হাজার ফুট নিচে টাইটানিক

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল। ১১১ বছর আগে হিমশৈলে ধাক্কা মেরে উত্তর অতলান্তিকে ডুবে যায় অন্যতম বিলাসবহুল যাত্রিবাহী জাহাজ টাইটানিক। মৃত্যু হয় ১৫০০-রও বেশি মানুষের।

গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের অনেক কিছুই এখনও মানুষের অজানা। সমুদ্রের ১০ হাজার ফুট নীচে রয়েছে এক অচেনা পৃথিবী। যেখানে দিনরাত্রি, ঋতু পরিবর্তন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রায় কোনও প্রভাব নেই।

প্রথম যাত্রাতেই ডুবে গিয়েছিল আরএমএস টাইটানিক। জাহাজটি সাউদাম্পটন থেকে নিউ ইয়র্কের পথে পাড়ি দিয়েছিল। জাহাজের নির্মাতা সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, এই জাহাজের ডুবে যাওয়া ‘অসম্ভব’। কিন্তু তার পরেও হিমশৈলে ধাক্কা মেরে ডুবে যায় জাহাজটি।

গভীর সমুদ্রে শায়িত থাকা সেই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনে গিয়ে সম্প্রতি টুকরো টুকরো হয়ে যায় ডুবোযান টাইটান। মৃত্যু হয় ডুবোযানের চালকসহ পাঁচ যাত্রীর। তার পর থেকেই আবার চর্চায় এসেছে টাইটানিক।

১০০ বছরের বেশি সময় ধরে সমুদ্রের তলায় রয়েছে টাইটানিক। এককালে যে বিলাসবহুল জাহাজ যাত্রীদের কোলাহল, আলোর রোশনাই, দেশি-বিদেশি খাবার এবং সুরায় মজেছিল, তা এখন শুধুই ধ্বংসাবশেষ।

অতলান্তিক মহাসাগরের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার ফুট নীচে থাকা টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ এখন অজানা এবং ‘ভয়ঙ্কর’ প্রাণীদের বাসস্থান।

সেখানেই নাকি বাস অদ্ভুত অদ্ভুত রহস্যজনক প্রাণী এবং উদ্ভিদদের। কাদা এবং পলির মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কীটও দেখতে পাওয়া যায়।

তবে সমুদ্রের অন্ধকারে থাকা এই প্রাণীদের বেশির ভাগেরই দেহ শক্ত আবরণে ঢাকা। অনেক প্রাণীর শরীরে আবার কোনও হাড় থাকে না।

টাইটানিকের ধ্বাংসাবশেষের কাছে দেখতে পাওয়া যায় ‘অ্যাবিসোব্রোটুলা গ্যালাথি’। যা আদপে এক রাক্ষুসে মাছ। যা মূলত কৃমি এবং অন্যান্য কীট খেয়ে বেঁচে থাকে। অর্ধস্বচ্ছ ত্বকে আচ্ছাদিত এই মাছের চোখ এতই ছোট যে তা দেখতে পাওয়া যায় না।

সমুদ্রের অতলে শিকারের জন্য তাদের মাথায় বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায়।

টাইটানিকের আশেপাশে গেলে দেখা মিলতে পারে দানব মাকড়সারও। বিশালকায় সে সব সামুদ্রিক মাকড়সা সমুদ্রের সাত থেকে ১৩ হাজার ফুট গভীরে বাস করে।

সমুদ্রের তলদেশে হামাগুড়ি দিয়ে বা সাঁতার কেটে ঘুরে বেড়ায় এই মাকড়সাগুলি। এগুলির এক একটির দৈর্ঘ্য আধা মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

তবে টাইটানিককে বাড়ি বানিয়েছে যে ‘ভয়ঙ্কর’ জিনিস, তা হল একটি ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়ার নাম ‘হ্যালোমোনাস টাইটানিকা’। ২০১০ সালে এই ব্যাকটেরিয়ার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে।

টাইটানিকের মরচে পড়া লোহা এই ব্যাকটেরিয়ার মূল খাদ্য। এই মরচে পড়া লোহা খেয়েই বেঁচে থাকে ‘হ্যালোমোনাস টাইটানিকা’। তাই এর নামও দেওয়া হয়েছে টাইটানিকের নামেই।

কিন্তু বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ, যে হারে এই ব্যাকটেরিয়া টাইটানিকের লোহা খেয়ে সাফ করে দিচ্ছে, তার জন্য টাইটানিক সমুদ্রের বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, ধাতু দিয়ে তৈরি হলেও সমুদ্রের অতলে বাঁচার উপায় নেই।

ছবি: সংগৃহীত

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ডুবে যাওয়া টাইটানিকে বসত করে ‘ভয়ঙ্কর’ প্রাণী, ভাঙা জাহাজের লোহা খেয়েই বেঁচে থাকে!

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল। ১১১ বছর আগে হিমশৈলে ধাক্কা মেরে উত্তর অতলান্তিকে ডুবে যায় অন্যতম বিলাসবহুল যাত্রিবাহী জাহাজ টাইটানিক। মৃত্যু হয় ১৫০০-রও বেশি মানুষের।

গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের অনেক কিছুই এখনও মানুষের অজানা। সমুদ্রের ১০ হাজার ফুট নীচে রয়েছে এক অচেনা পৃথিবী। যেখানে দিনরাত্রি, ঋতু পরিবর্তন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রায় কোনও প্রভাব নেই।

প্রথম যাত্রাতেই ডুবে গিয়েছিল আরএমএস টাইটানিক। জাহাজটি সাউদাম্পটন থেকে নিউ ইয়র্কের পথে পাড়ি দিয়েছিল। জাহাজের নির্মাতা সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, এই জাহাজের ডুবে যাওয়া ‘অসম্ভব’। কিন্তু তার পরেও হিমশৈলে ধাক্কা মেরে ডুবে যায় জাহাজটি।

গভীর সমুদ্রে শায়িত থাকা সেই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনে গিয়ে সম্প্রতি টুকরো টুকরো হয়ে যায় ডুবোযান টাইটান। মৃত্যু হয় ডুবোযানের চালকসহ পাঁচ যাত্রীর। তার পর থেকেই আবার চর্চায় এসেছে টাইটানিক।

১০০ বছরের বেশি সময় ধরে সমুদ্রের তলায় রয়েছে টাইটানিক। এককালে যে বিলাসবহুল জাহাজ যাত্রীদের কোলাহল, আলোর রোশনাই, দেশি-বিদেশি খাবার এবং সুরায় মজেছিল, তা এখন শুধুই ধ্বংসাবশেষ।

অতলান্তিক মহাসাগরের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার ফুট নীচে থাকা টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ এখন অজানা এবং ‘ভয়ঙ্কর’ প্রাণীদের বাসস্থান।

সেখানেই নাকি বাস অদ্ভুত অদ্ভুত রহস্যজনক প্রাণী এবং উদ্ভিদদের। কাদা এবং পলির মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কীটও দেখতে পাওয়া যায়।

তবে সমুদ্রের অন্ধকারে থাকা এই প্রাণীদের বেশির ভাগেরই দেহ শক্ত আবরণে ঢাকা। অনেক প্রাণীর শরীরে আবার কোনও হাড় থাকে না।

টাইটানিকের ধ্বাংসাবশেষের কাছে দেখতে পাওয়া যায় ‘অ্যাবিসোব্রোটুলা গ্যালাথি’। যা আদপে এক রাক্ষুসে মাছ। যা মূলত কৃমি এবং অন্যান্য কীট খেয়ে বেঁচে থাকে। অর্ধস্বচ্ছ ত্বকে আচ্ছাদিত এই মাছের চোখ এতই ছোট যে তা দেখতে পাওয়া যায় না।

সমুদ্রের অতলে শিকারের জন্য তাদের মাথায় বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায়।

টাইটানিকের আশেপাশে গেলে দেখা মিলতে পারে দানব মাকড়সারও। বিশালকায় সে সব সামুদ্রিক মাকড়সা সমুদ্রের সাত থেকে ১৩ হাজার ফুট গভীরে বাস করে।

সমুদ্রের তলদেশে হামাগুড়ি দিয়ে বা সাঁতার কেটে ঘুরে বেড়ায় এই মাকড়সাগুলি। এগুলির এক একটির দৈর্ঘ্য আধা মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

তবে টাইটানিককে বাড়ি বানিয়েছে যে ‘ভয়ঙ্কর’ জিনিস, তা হল একটি ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়ার নাম ‘হ্যালোমোনাস টাইটানিকা’। ২০১০ সালে এই ব্যাকটেরিয়ার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে।

টাইটানিকের মরচে পড়া লোহা এই ব্যাকটেরিয়ার মূল খাদ্য। এই মরচে পড়া লোহা খেয়েই বেঁচে থাকে ‘হ্যালোমোনাস টাইটানিকা’। তাই এর নামও দেওয়া হয়েছে টাইটানিকের নামেই।

কিন্তু বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ, যে হারে এই ব্যাকটেরিয়া টাইটানিকের লোহা খেয়ে সাফ করে দিচ্ছে, তার জন্য টাইটানিক সমুদ্রের বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, ধাতু দিয়ে তৈরি হলেও সমুদ্রের অতলে বাঁচার উপায় নেই।

ছবি: সংগৃহীত