জ্বালানির চাপ দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
রবিবার দুপুরে শেরে বাংলানগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভায় উপস্থিত থাকেন অর্থমন্ত্রী, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাবাব ফাতিমা ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি: ছবি সংগ্রহ
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি জানান, জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, যাতে একদিকে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
দেশের অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচক নিম্নমুখী উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে চাপ আরও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।


















