জেদ্দায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার: ওআইসি সম্মেলনের প্রান্তে ৫ দেশের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক
- আপডেট সময় : ০১:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর ফিলিস্তিন বিষয়ক নির্বাহী সভার প্রান্তে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেন।
বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু, বিশেষত ফিলিস্তিন প্রশ্ন, রোহিঙ্গা সংকট, জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়সমূহ গুরুত্ব পায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন আঘাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি-এর সঙ্গে।
বৈঠকসমূহে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান-এর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে অগ্রসর হবে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের নীতিগত ও অবিচল অবস্থানের প্রশংসা করে অংশীদার দেশগুলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্ত ও পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও দৃঢ় সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান যে আরব-ইসলামিক পরিমণ্ডল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে।
তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় তুরস্কের অব্যাহত সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতা জানায়।
উভয় পক্ষ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও দ্রুত সমাধানে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর উদ্দেশ্যে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।
সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফর করবেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর আওতায় বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের বহুমাত্রিক সুযোগের কথা উল্লেখ করে সম্ভাবনাগুলো বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে সম্মতি ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে কাঠামোগত সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন সৌদি মন্ত্রী।
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়েরকৃত মামলায় বাংলাদেশের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ চলতি বছরের এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠেয় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের প্রান্তে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে একটি বিশেষ ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়।
গাম্বিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আফ্রিকান দেশগুলোর সমর্থন সুনিশ্চিত করতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে।
উল্লেখ্য, এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও রাষ্ট্রদূত মোল্লা ফরহাদ হোসেন এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম. জে. এইচ. জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।









