জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু: ড. ইউনূস
- আপডেট সময় : ০৬:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ৯১ বার পড়া হয়েছে
জুলাই সনদ আমাদের নবযাত্রা—বর্বরতা থেকে সভ্যতার পথে আগামীর অঙ্গীকার
আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসের মাথায় শুক্রবার বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এই সনদে স্বাক্ষর করেন।
সনদে স্বাক্ষরের পর ড. ইউনূস বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হলো। জুলাই সনদ আমাদের নবযাত্রা—বর্বরতা থেকে সভ্যতার পথে আগামীর অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর এত বৃহৎ জাতীয় ঐকমত্যের দলিল কোনো দেশে দেখা যায়নি। এই সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। সনদকে কেন্দ্র করে আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও দুপুর নাগাদ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন জুলাই যোদ্ধারা। তারা সংসদ ভবনের ফটক টপকে দক্ষিণ প্লাজায় গিয়ে মঞ্চের সামনে বসে পড়েন। ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি আলী রীয়াজ মঞ্চে এসে তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হবে। জুলাই সনদের পঞ্চম দফায় শহীদ ও আহতদের মর্যাদা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীরা মঞ্চ না ছাড়ায় পুলিশ তাদের সরাতে অভিযান চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। বিক্ষুব্ধরা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়। কয়েকজন আহতকে হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।
দুপুরের পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষের পরও বিকেল পাঁচটায় নির্ধারিত সময়েই জুলাই সনদে স্বাক্ষর হয়।
এদিকে সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন ও ইতিহাস উপস্থাপনে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) এবং বাংলাদেশ জাসদ সনদে স্বাক্ষর না করার ঘোষণা দেয়। এনসিপি ‘আইনি ভিত্তি অস্পষ্ট’ উল্লেখ করে অনুষ্ঠান থেকে সরে যায়।
সব বিতর্ক ও সংঘর্ষ পেছনে ফেলে, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা ড. ইউনূসের ভাষায় “জাতির নবজাগরণের দলিল।



















