চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে মোংলা বন্দরে রেকর্ড কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরে কন্টেইনার ও পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এই সময়ে বন্দরে ২৮টি কন্টেইনার জাহাজের মাধ্যমে রেকর্ড ১৭ হাজার ৩৮৭ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৪০টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করায় বন্দরের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) সূত্র জানায়, গত ছয় মাসে ১৫টি জাহাজের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ২৪৪টি আমদানি করা যানবাহন বন্দরে খালাস করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৬৩ লাখ ২৭ হাজার টন পণ্য আমদানি এবং ৪২ হাজার ৬৭১ টন পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।
এমপিএ’র উপ-সচিব মো. মাকরুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে বন্দরের মাধ্যমে ২৬টি জাহাজে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬১১ টন আমদানিকৃত পণ্য এবং ৮৭ হাজার ৮০০ টন রপ্তানিকৃত পণ্য পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ১১ হাজার ৫৭৯টি রিকন্ডিশনড যানবাহন আমদানি হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই ৬৩ দশমিক ৭০ লাখ টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে, যা বন্দরের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, জাহাজ আগমন বৃদ্ধি ও কার্যক্রম গতিশীল করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ একাধিক কাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খাদ্যশস্য, সার, সিমেন্টের কাঁচামাল, ক্লিংকার, কয়লা, জ্বালানি তেল, এলপিজি, অটোমোবাইল ও শিল্পযন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ আমদানিপণ্য জাতীয় চাহিদা পূরণে মোংলা বন্দর কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
একই সঙ্গে বন্দরটি চিংড়ি, সাদা মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড় এবং অন্যান্য সাধারণ পণ্য রপ্তানিতে সহায়তা করছে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দর ১০.৪১ মিলিয়ন টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে ৩৪৩ দশমিক ৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে নতুন রেকর্ড গড়ে। একই সময়ে নিট মুনাফা হয় ৬২ দশমিক ১ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২০০ শতাংশের বেশি।
বন্দর সূত্র জানায়, মোংলা-ঘাসিয়াখালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ড্রেজিং সম্পন্ন হওয়ায় বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে। নাব্যতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে জাহাজ আগমন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















