ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল পুটখালী সীমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শিগগির ঢাকার সক্রিয় চাঁদাবাজদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, তেলের দাম লাগামছাড়া চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির

খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতি-আইনী কাঠামো সংস্কার জরুরি 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫ ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতি-আইনী কাঠামো সংস্কার জরুরি 

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের নীতি ও আইনী কাঠামো সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কৃষিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় কৃষিনীতি সংস্কার করতে হবে। বাণিজ্যিক অধিকারের পরিবর্তে খাদ্য অধিকারকে অগ্রাধিকার প্রদান করে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।

বুধবার  রাজধানীর একেএম মুশতাক আলী মিলনায়তনে সাউথ এশিয়ান অ্যালায়েন্স ফর প্রোভার্টি ইরিডিকেশন (স্যাপি) ও ইনসিডিন বাংলাদেশ আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক একেএম মাসুদ আলী।

বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এস এম বদরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খান মো. রুস্তম আলী, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ইনসিডিন বাংলাদেশের অপারেশন চীফ মুশফিকুর রহমান ও পলিসি এন্ড লিগ্যাল সার্পোট স্পেশালিস্ট মো. রফিকুল আলম, আদিবাসী নেত্রী কল্যাণী চাকমা প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে একেএম মাসুদ আলী বলেন, স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে জনগণের খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীনদের ভূমি, পানি, বীজ ও ঋণ প্রাপ্তির অধিকারকে অগ্রাধিকার প্রদান করেত হবে। ভূমি সংস্কার, জীন পরিবর্তিত শস্যাদি প্রবর্তন প্রতিরোধ, বিনামূল্যে বীজ প্রাপ্তির অধিকার এবং জলের উৎস্যসমূহকে জনগণের সাধারণ সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়কে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অংশগ্রহণ ও অগ্রাধিকার দিয়ে সকল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

কৃষকনেতা বদরুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসছে। নিয়মিত বর্ষা না হওয়ায় পাটের উৎপাদনের সাথে যুক্ত কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। একইভাবে নদী ভাঙন, খরা, আকস্মিক বন্যা ও দক্ষিণঞ্চালে লবণাক্তার প্রভাবে জমি হারাচ্ছে কৃষক। এতে মানুষের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের মাত্রা বেড়েছে। জীবিকার জন্যে শহরমুখী হয়ে অনেকে মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানীর কৃষি উপকরণের উপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং সার, বীজ ও কীটনাশকের বাজার সিন্ডিকেট, কৃষি ও কৃষকের গঠন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কৃষিতে কর্পোরেট আধিপত্য ও কৃষি কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা কৃষকরা ক্রমশঃই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে। যা প্রকারান্তে দেশের খাদ্য সার্বভৌমত্বকে হুমকি মুখে ফেলে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে কৃষক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী ৮টি, আদিবাসী ৩টি এবং ২১টি সুশীল সমাজের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রাপ্ত পরামর্শ ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে খাদ্য সার্বভৌমত্বের জন্য নীতি ও আইনী কাঠামো প্রণয়ন, সমন্বয় ও সংস্কার প্রয়োজন। এ সকল বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতি-আইনী কাঠামো সংস্কার জরুরি 

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের নীতি ও আইনী কাঠামো সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কৃষিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় কৃষিনীতি সংস্কার করতে হবে। বাণিজ্যিক অধিকারের পরিবর্তে খাদ্য অধিকারকে অগ্রাধিকার প্রদান করে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।

বুধবার  রাজধানীর একেএম মুশতাক আলী মিলনায়তনে সাউথ এশিয়ান অ্যালায়েন্স ফর প্রোভার্টি ইরিডিকেশন (স্যাপি) ও ইনসিডিন বাংলাদেশ আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক একেএম মাসুদ আলী।

বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এস এম বদরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খান মো. রুস্তম আলী, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ইনসিডিন বাংলাদেশের অপারেশন চীফ মুশফিকুর রহমান ও পলিসি এন্ড লিগ্যাল সার্পোট স্পেশালিস্ট মো. রফিকুল আলম, আদিবাসী নেত্রী কল্যাণী চাকমা প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে একেএম মাসুদ আলী বলেন, স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে জনগণের খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীনদের ভূমি, পানি, বীজ ও ঋণ প্রাপ্তির অধিকারকে অগ্রাধিকার প্রদান করেত হবে। ভূমি সংস্কার, জীন পরিবর্তিত শস্যাদি প্রবর্তন প্রতিরোধ, বিনামূল্যে বীজ প্রাপ্তির অধিকার এবং জলের উৎস্যসমূহকে জনগণের সাধারণ সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়কে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অংশগ্রহণ ও অগ্রাধিকার দিয়ে সকল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

কৃষকনেতা বদরুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসছে। নিয়মিত বর্ষা না হওয়ায় পাটের উৎপাদনের সাথে যুক্ত কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। একইভাবে নদী ভাঙন, খরা, আকস্মিক বন্যা ও দক্ষিণঞ্চালে লবণাক্তার প্রভাবে জমি হারাচ্ছে কৃষক। এতে মানুষের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের মাত্রা বেড়েছে। জীবিকার জন্যে শহরমুখী হয়ে অনেকে মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানীর কৃষি উপকরণের উপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং সার, বীজ ও কীটনাশকের বাজার সিন্ডিকেট, কৃষি ও কৃষকের গঠন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কৃষিতে কর্পোরেট আধিপত্য ও কৃষি কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা কৃষকরা ক্রমশঃই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে। যা প্রকারান্তে দেশের খাদ্য সার্বভৌমত্বকে হুমকি মুখে ফেলে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে কৃষক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী ৮টি, আদিবাসী ৩টি এবং ২১টি সুশীল সমাজের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রাপ্ত পরামর্শ ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে খাদ্য সার্বভৌমত্বের জন্য নীতি ও আইনী কাঠামো প্রণয়ন, সমন্বয় ও সংস্কার প্রয়োজন। এ সকল বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।