কয়েক দশকের মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বাংলাদেশে মৃত ৬
- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ ২০৮ বার পড়া হয়েছে
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাতে শিশুসহ ৬জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় দুইশতাধিক। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা বেজে ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানানিয়েছেন, এটির উৎপত্তিস্থল ঢাকার ১৩ কিলোমিটার অদূরে নরসিংদীর মাধবদীতে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় প্রায় সকল স্থানে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। অনেকের বাসাবাড়ি আসবাব ভেঙে পড়ে।
কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে সিলেট, নোয়াখালী অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্র ঢাকার আরো কাছে নরসিংদীতে। ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করেন এমন অনেকে বলছেন, এর আগে ঢাকার এত কাছে এই মাত্রার ভূমিকম্প উৎপত্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলছেন, বাংলাদেশের মধ্যে টেকটোনিক প্লেটের যে পাঁচটি সোর্স আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রিখটার স্কেলে পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার এই ভূমিকম্প গত কয়েক দশকে দেশের ভেতরে উৎপত্তি হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল।

এর আগে সিলেট, নোয়াখালী অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্র ঢাকার আরো কাছে নরসিংদীতে।
ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করেন এমন অনেকে বলছেন, এর আগে ঢাকার এত কাছে এই মাত্রার ভূমিকম্প উৎপত্তি হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলছেন, বাংলাদেশের মধ্যে টেকটোনিক প্লেটের যে পাঁচটি সোর্স রয়েছে, তার মধ্যে নোয়াখালী থেকে শুরু করে কক্সবাজার, নোয়াখালী থেকে সিলেট এবং আরেকটি সিলেট থেকে ভারতের দিকে চলে গেছে। নোয়াখালী থেকে সিলেট, এই অংশে যে বড় ফাটল রয়েছে তারই একটি ছোট অংশ নরসিংদী, এর ফলে নরসিংদী এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলেও মনে করেন মি. আনসারী।
তার মধ্যে নোয়াখালী থেকে শুরু করে কক্সবাজার, নোয়াখালী থেকে সিলেট এবং আরেকটি সিলেট থেকে ভারতের দিকে চলে গেছে। ভূমিকম্পের পর ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে।
সর্বশেষ খবরে জানা যায়, ঢাকায় আরমানিটোলার কসাইটুলিতে একটি আটতলা ভবনের দেয়াল ও কার্নিশ থেকে ইট-পলেস্তরা নিচে পড়ে ৩ জন মারা যায়। মৃতদের মধ্যে রাফিউল ইসলাম (২২), হাজী আবদুর রহিম (৪৭) এবং তার ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন (১২)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, ভর্তি রয়েছেন ৬ জন। মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে ১০ জনকে।

ভূমিকম্পে বাংলাদেশে মৃত ৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলে পলেস্তারা খসে পড়া ও লাফিয়ে নামার ঘটনায় একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। নরসিংদীর পলাশে মাটির ঘর ভেঙে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটনা ছাড়াও সদর থানার গাবতলীতে সানশেড ভেঙে পড়ে ওমর নামে ১০ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। তার বাবা ও দুই বোন আহত হয়েছেন।
গাজীপুর, শ্রীপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শতাধিক আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। গাজীপুরে একটি ৬তলা ভবন হেলে পড়েছে, একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা গেছে। ঢাকা মহানগরীরর বিভিন্ন এলাকায় ভবনের পলেস্তারা খসে পড়া ও আসবাবপত্র ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের ফলে নরসিংদীর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, ফলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। মোবাইল নেটওয়ার্কও কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শোক বার্তায় জানান, জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।



















