কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত
- আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের জন্য একটি মানবিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বস্তি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি একে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতায় অনেক কৃষক ঋণের চাপে দিশেহারা। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি বয়ে আনবে এবং নতুন করে উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা লাঘব হলে কৃষকরা পুনরায় বীজ, সার ও সেচে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
কৃষি উন্নয়নের প্রশ্নে সরকারের এই অবস্থান দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় খাল খনন, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা নতুন প্রেক্ষাপটে আরও বিস্তৃত করার বার্তা দিচ্ছে বর্তমান উদ্যোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকের আর্থিক পুনর্বাসন শুধু একটি সামাজিক সহমর্মিতার পদক্ষেপ নয়, এটি উন্নয়ন কৌশলেরও অংশ। ঋণমুক্ত হয়ে কৃষক যদি নতুন মৌসুমে চাষাবাদে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান, তবে খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান, সবখানেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ একুশের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দিনভর সরকারি কর্মসূচির মধ্যেও কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই ছিল দিনের মূল সুর।
কৃষকেরা এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন, ঋণের বোঝা হালকা করে উৎপাদনের মাঠে আরও শক্তভাবে দাঁড়ানোর। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে গ্রামবাংলার প্রান্তিক চাষির মুখে ফিরবে স্বস্তির হাসি, আর কৃষিখাত পাবে নতুন গতি ও প্রাণ।









