কুয়াশার চাদরে ঢাকা দেশ, কনকনে শীতে কাঁপছে জনজীবন
- আপডেট সময় : ১২:৫৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যা কিনা শনিবারও চলতে পারে।
ভোরের আলো ঠিকমতো ফুটে ওঠার আগেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় চারপাশ। দৃশ্যমানতা কমে আসে কয়েক হাতের মধ্যে।
কনকনে শীতে বাবার সঙ্গে সাইকেলের পেছনে বসে থাকা শিশুটির গাল লাল হয়ে উঠেছে, নওয়াপাড়ার সেই ছবিটিই যেন এ সময়ের বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। শীত শুধু অনুভূতির বিষয় নয়, সংখ্যার ভাষাতেও এবার তা স্পষ্ট।
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, ঢাকায় ছুটির দিনে তা ঠেকেছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে। ইট–পাথরের রাজধানীতে এমন শীত শহরবাসীর জন্য নতুন বাস্তবতা হয়ে ধরা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঢাকায় শীতের দাপট বাড়তে শুরু করে। রাত পোহাতেই নগরবাসীর সঙ্গে দেখা হয় কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশার। সকালে অফিসগামী মানুষ, স্কুলপড়ুয়া শিশু কিংবা রাস্তায় কর্মরত শ্রমজীবীরা সবার মুখেই শীতের কথা।
যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যা শনিবারও চলতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবওহাওয়া অধিদপ্তর।
শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। ফুটপাতে রাত কাটানো মানুষদের কাছে এই শীত যেন নীরব দুর্যোগ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, শীতের এই তীব্রতার পেছনে রয়েছে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়। এই বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের ওপর শুষ্ক ও ঠান্ডা বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি বাড়ছে শীতের অনুভূতি। আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে উড়োজাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার ফলে অনেক এলাকায় ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। যদিও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার ইঙ্গিত আছে, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও খুব একটা স্বস্তির খবর নেই। শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল অবধি উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র থাকবে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা।

তাপমাত্রা বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও শীতের প্রকোপ টের পাওয়া যাবে। সোমবার থেকে মঙ্গলবারের পূর্বাভাসেও একই চিত্র। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, আকাশ থাকবে শুষ্ক, কোথাও কোথাও আংশিক মেঘলা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীত ও কুয়াশার এই যুগলবন্দি আরও কয়েক দিন বাংলাদেশের জনজীবনে প্রভাব ফেলবে। শহর থেকে গ্রাম–সবখানেই শীতের গল্প চলবে একই সুরে। এখন দেখার বিষয়, এই কনকনে শীতের সঙ্গে মানুষ কতটা মানিয়ে নিতে পারে, আর সমাজ কতটা পাশে দাঁড়ায় সবচেয়ে অসহায়দের।



















