ঐতিহ্য আর স্থাপত্যের অনন্য সমন্বয়: খান মোহাম্মাদ মৃধা মসজিদ
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২৪ বার পড়া হয়েছে
পুরনো ঢাকার লালবাগে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে, এর মধ্যে খান মোহাম্মাদ মৃধা মসজিদ অন্যতম। ১৭০৪–১৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার প্রধান কাজী, কাজী খান মোহাম্মাদ এবাদউল্লাহর নির্দেশে খান মোহাম্মদ মৃধা এই তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করেন। লালবাগ দুর্গের পশ্চিমে আতিশখানায় অবস্থিত এ মনোমুগ্ধকর স্থাপনাটি ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য সমন্বয়।

মসজিদটির স্থাপত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রায় সতেরো ফুট উঁচু একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম, যার ওপর মূল তিন গম্বুজ বিশিষ্ট গঠনটি দাঁড়িয়ে আছে। প্ল্যাটফর্মের নিচে রয়েছে লম্বা করিডোর ও পাশে ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ, যেগুলোতে আলো–বাতাসের অনুপ্রবেশ অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক পরিবেশ সৃষ্টি করে। ধারণা করা হয়, ওপরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মাদ্রাসার পাঠদান হতো এবং নিচের প্রকোষ্ঠগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা।

প্রাচীরঘেরা এই মসজিদ কম্পাউন্ডে মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে বাম পাশে দেখা যায় মূল মসজিদ কাঠামো এবং ডানদিকে রয়েছে বিস্তৃত বাগান। বাগানের উত্তর–পূর্ব কোনে একটি পরিত্যক্ত কূপ রয়েছে, যেখান থেকে একসময় অজু ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সরবরাহ করা হতো। মসজিদের চারপাশে রয়েছে বিশ–পঁচিশটি ছোট মিনারসদৃশ অলংকরণ, যা এর সৌন্দর্যকে আরও বর্ধিত করেছে।

বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের অধীনে হলেও নামাজের জন্য স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত হয়। লালবাগ কেল্লা থেকে প্রায় ২০০ গজ পশ্চিমে অবস্থিত এ স্থাপনাটি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। গাবতলী থেকে বিহঙ্গ পরিবহনে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে সেখান থেকে অল্প রিকশাভাড়া দিয়েই লালবাগে পৌঁছানো যায়। সদরঘাট লঞ্চটার্মিনাল থেকেও বাবুবাজার হয়ে লালবাগে যাওয়া সম্ভব।
ঐতিহাসিক স্থাপত্য, নীরব পরিবেশ এবং অতীতের ছোঁয়া-সব মিলিয়ে খান মোহাম্মাদ মৃধা মসজিদ পুরনো ঢাকার অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন।



















