আসন্ন ফেব্রুয়ারির গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব করতে একাধিক বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।
ভোটারদের সচেতন করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পরিবেশবান্ধব বিশেষ ব্যানার টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যানার তৈরির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে ইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যানার তৈরিতে ৮০ শতাংশ প্রাকৃতিক কটন ও ২০ শতাংশ ভিসকস মিশ্রিত পরিবেশবান্ধব ফেব্রিক ব্যবহার করতে হবে। ব্যানার হবে রিঅ্যাকটিভ ডিজিটাল প্রিন্টে তৈরি, যার দৈর্ঘ্য ৩ ফুট ও প্রস্থ ৫ ফুট। ব্যানারের ওপর ও নিচে পিভিসি পাইপ এবং ঝোলানোর জন্য হুক থাকতে হবে। ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ প্রতিটি ব্যানারের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৬ টাকা। কমিশনের মতে, এর মাধ্যমে একদিকে ভোটারদের তথ্য দেওয়া যাবে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।
ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। কোনো উপজেলায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে কেবল পাশের বা নিকটবর্তী উপজেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে একটি আসনের সব প্রিসাইডিং অফিসারকে একযোগে অন্য আসনে নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। ইসি জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে প্যানেল চূড়ান্ত করতে হবে। জনবলসংকটের যৌক্তিক কারণ ছাড়া আন্তঃউপজেলা নিয়োগ গ্রহণযোগ্য হবে না।
গণভোটের প্রচারে ভোটকেন্দ্রে ব্যানার টানাতে ইসির নির্দেশ
একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক প্রার্থীর নাম হুবহু হলে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে বিশেষ ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এ ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার ও প্রার্থী তালিকায় প্রার্থীর নামের সঙ্গে তাঁর বাবা, মা অথবা স্বামীর নাম যুক্ত করে পরিচয় স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতীকের ক্রমানুসারে নাম সাজানোর কথাও বলা হয়েছে। কমিশনের মতে, এতে ব্যালট পেপার ছাপানো ও ভোটারদের সঠিক প্রার্থী চিহ্নিত করতে জটিলতা কমবে এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
এ ছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি—ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি)—চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে এসব কর্মসূচি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।
সব মিলিয়ে ইসির এসব নির্দেশনা নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।