ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

ইরানে বিক্ষোভে প্রায় ২ হাজার নিহতের দাবি, প্রথমবারের মতো বড় সংখ্যা স্বীকার করল কর্তৃপক্ষ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সড়কে বিক্ষোভকারীরা। জ্বলছে আগুন : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা দেশব্যাপী অস্থিরতা দমনে কঠোর অভিযান শুরুর পর এই প্রথম ইরানি কর্তৃপক্ষ এত বড় সংখ্যক প্রাণহানির কথা স্বীকার করল।

ওই কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয় পক্ষই রয়েছে। তবে কতজন সাধারণ নাগরিক এবং কতজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি দেননি। তাঁর দাবি, এই প্রাণহানির পেছনে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ দায়ী, যারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংসতায় রূপ দিয়েছে।

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। বিশ্লেষকদের মতে, গত তিন বছরের মধ্যে এটি ইরানি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র চাপের মুখে রয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব এই আন্দোলন মোকাবিলায় দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক দুরবস্থাজনিত প্রতিবাদকে ‘বৈধ’ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করা হচ্ছে।

ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে বলেছে, বিদেশি মদদপুষ্ট গোষ্ঠী ও তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ আন্দোলনকে সহিংস করে তুলেছে। এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ থাকায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু গত এক সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাতের বেলা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি এবং যানবাহন ও ভবনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা গেছে। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইরানে বিক্ষোভে প্রায় ২ হাজার নিহতের দাবি, প্রথমবারের মতো বড় সংখ্যা স্বীকার করল কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা দেশব্যাপী অস্থিরতা দমনে কঠোর অভিযান শুরুর পর এই প্রথম ইরানি কর্তৃপক্ষ এত বড় সংখ্যক প্রাণহানির কথা স্বীকার করল।

ওই কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয় পক্ষই রয়েছে। তবে কতজন সাধারণ নাগরিক এবং কতজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি দেননি। তাঁর দাবি, এই প্রাণহানির পেছনে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ দায়ী, যারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংসতায় রূপ দিয়েছে।

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। বিশ্লেষকদের মতে, গত তিন বছরের মধ্যে এটি ইরানি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র চাপের মুখে রয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব এই আন্দোলন মোকাবিলায় দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক দুরবস্থাজনিত প্রতিবাদকে ‘বৈধ’ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করা হচ্ছে।

ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে বলেছে, বিদেশি মদদপুষ্ট গোষ্ঠী ও তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ আন্দোলনকে সহিংস করে তুলেছে। এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ থাকায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু গত এক সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাতের বেলা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি এবং যানবাহন ও ভবনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা গেছে। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষকরা।