আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী পরিষদের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া
- আপডেট সময় : ০২:১৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মৃত্যুর পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্বাভাবিক ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ দায়িত্ব পালন করছে।
এই পরিষদে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেম সদস্য। বর্তমানে বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই অন্তর্বর্তী পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (ইরনা) জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর মোহসেনি-ইজেই তার প্রথম বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম জাতির কোলে বড় হওয়া মহান মুজাহিদিনদের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে এমন অপরাধের মাধ্যমে কখনোই ব্যাহত করতে পারবে না।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তেহরান এই ঘটনাকে কেবল একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পর থেকে ইরানের সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের প্রধানদের প্রকাশ্যে খুব কম দেখা গেছে—যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। রাজধানী তেহরান–এ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনী উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

বিশ্বমুসলিমের প্রতিক্রিয়া মিশ্র হলেও আবেগপ্রবণ। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া রাজনৈতিক দলসমূহ এবং ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী খামেনিকে “প্রতিরোধের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে সুন্নি-প্রধান কিছু দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃত্ব নির্বাচন করবে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts)। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও সরকারিভাবে কোনো নাম ঘোষণা হয়নি।
পরবর্তী পরিস্থিতি কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে:
১. নতুন সর্বোচ্চ নেতা কত দ্রুত নির্বাচিত হন।
২. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা কতটা বৃদ্ধি পায়।
৩. ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমত ও রাজনৈতিক ঐক্য কতটা সুসংহত থাকে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান “প্রতিরোধ ও প্রতিশোধ”–এর ভাষা ব্যবহার করছে, তবে সরাসরি সামরিক জবাব দেবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, খামেনির মৃত্যুর পর ইরান এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে—যেখানে নেতৃত্বের পুনর্গঠন, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বৈশ্বিক শক্তির অবস্থান ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে। সূত্র বিবিসি









