আমদানি চাপ বাড়ায় চার মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৭৫০ কোটি ডলার
- আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে
রমজানকে সামনে রেখে আমদানির চাপ বাড়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অফ পেমেন্টসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি গত বছরের একই সময়ে ৫৭০ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২০০ কোটি ডলার বেড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এই চার মাসে আমদানির পরিমাণ দুই হাজার ২১১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৫ শতাংশ বেশি। রপ্তানি ছিল এক হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বেড়ে ঘাটতি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে মাসিক আমদানির পরিমাণ ৫৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই বৃদ্ধি মূলত পেট্রোলিয়াম ও সার আমদানি এবং রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির কারণে। রমজানে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, মটর ডাল ও খেজুরের চাহিদা বেড়ে যায়। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় সয়াবিন তেল আমদানি ৩৬%, চিনি ১১%, মসুর ডাল ৮৭%, ছোলা ২৭%, মটর ডাল ২৯৪% এবং খেজুর ২৩১% বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেল ও সার আমদানিও যথাক্রমে ৫০% ও ২৫% বেড়েছে।
বাণিজ্য ঘাটতির প্রভাব চলতি হিসাবেও পড়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে চলতি হিসাব ঘাটতি ৭৪৯ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের ৬৪০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় বেশি। অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলেও আমদানি ব্যয়ের কারণে চলতি হিসাব ঋণাত্মক। রেমিট্যান্স ১,০১০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে ফিন্যানশিয়াল অ্যাকাউন্ট উদ্বৃত্ত রয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এটি ২.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা ট্রেড ক্রেডিট ও মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বৃদ্ধির কারণে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেড ক্রেডিট এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের ৪৫০ মিলিয়নের তুলনায় অনেক বেশি।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বৃদ্ধির ফলে ফিন্যানশিয়াল অ্যাকাউন্টের ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে। আমদানি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে ক্রেডিট ফিন্যান্সিংও বাড়ায় ট্রেড ক্রেডিটে প্রবাহ দৃঢ় হয়েছে। এই পরিস্থিতি ব্যাংকিং ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।



















