ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৫০ জনের বেশি নিহত

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩৬২ বার পড়া হয়েছে

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৫০ জনের বেশি নিহত ছবি: সংগৃহীত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আফগানিস্তানে ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

দেশটির পূর্বাঞ্চলের পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ছিলো ৬। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানায়।

রোববার গভীর রাতে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ সময় দেশটির বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন।

দেশটির কর্মকর্তারা সোমবার জানান, এ ভূমিকম্পের আঘাতে ২৫০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আনাদোলুকে জানান, ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলো বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না, তাই প্রশাসন আহতদের উদ্ধার ও বিমানে তোলার জন্য হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং কমপক্ষে ৫০০ জন আহত হয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, আফগানিস্তানের স্থানীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, নাঙ্গারহার ও কুনার প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যেই ১১৫ জনের বেশি আহতকে ভর্তি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। এরপর অন্তত আরও তিনটি কম্পন হয়েছে, সেগুলোর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ২ পর্যন্ত।

ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি কয়েক সেকেন্ড ধরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে (যা উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিমি দূরে) এবং পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও (প্রায় ৪০০ কিমি দূরে) অনুভূত হয়।

তালেবান সরকারের কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজে সহায়তা দিতে ত্রাণ সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

কুনার প্রদেশের পুলিশ প্রধান বিবিসিকে বলেন, বন্যা ও ভূমিকম্প-পরবর্তী ধসের কারণে সড়কপথ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধারকাজ এখন কেবল আকাশপথে করা সম্ভব।

তালেবান কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। তাই তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে হেলিকপ্টারসহ সাহায্য চেয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো যায়।

বর্তমান অস্থিরতা থেকে আমাদেরকেই মুক্তি আনতে হবে

এই আধুনিক সভ্যতা বৈজ্ঞানিক উন্নতি মানবতাবোধ ন্যায়বিচার সত্য প্রতিষ্ঠান আপনাদের সহ্য হবে না আপনারা সেই মীরজাফরের আমলে চলে যান এটাই ভালো হবে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন সময়ের সাথে এক অনিবার্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রের অভিযাত্রা, উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পথে এ অস্থিরতা বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের বাস্তবতায়, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভাজন, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকট, এবং নাগরিক অধিকার সংকোচনের মতো ইস্যুগুলো আরও প্রকট। এই সম্পাদকীয় নিবন্ধে রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল কারণ, এর বহুমাত্রিক প্রভাব, এবং উত্তরণের কার্যকর দিকগুলি পর্যালোচনা করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, বিরোধীদলের দমন, এবং নির্বাহী বিভাগের ওপর অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিয়েছে। একদলীয় প্রাধান্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে প্রতিহিংসায় রূপান্তর করেছে।

নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি, কিংবা ভোটাধিকারের বাধাগুলো নাগরিকদের নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে দেখতে বাধা দেয়। ফলে জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ক্ষীণ হয় এবং ক্ষোভ জন্ম নেয়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমালোচনামূলক সংবাদমাধ্যমের অবস্থা, এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন—এই তিনটি বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাব দেশে বাকস্বাধীনতা হ্রাস করেছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম উৎস।

শিক্ষিত যুব সমাজের কর্মসংস্থানের সংকট ও রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত থাকার অনুভূতি নতুন প্রজন্মের মাঝে এক ধরনের নিরাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে, যা অস্থিরতাকে উসকে দেয়।

রাজনৈতিক বিভক্তি আজ পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আনুগত্য জাতিকে সংঘাতের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

অনিশ্চয়তা ও অনিরাপত্তার কারণে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করতে শুরু করেছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে পারে।

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পুলিশি নির্যাতন ও নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনকে নির্দেশ করছে।

উত্তরণের প্রথম ধাপ হিসেবে জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ। সকল প্রধান রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে গণতান্ত্রিক সংলাপ শুরু করতে হবে যেখানে নির্বাচনের পদ্ধতিগত সংস্কার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও মানবাধিকার বিষয়ে একটি সহমত গড়ে উঠবে।

একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করতে হবে যাতে নাগরিকরা নির্বাচনের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার রোধ এবং তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করতে হবে।

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রজন্মকে ক্ষমতায়িত করা সম্ভব।

দেশের নীতিনির্ধারণে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্তি একটি সুশীল, নৈতিক সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে। এক্ষেত্রে সম্পাদক, শিল্পী ও দার্শনিকদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

বাংলাদেশের ইতিহাস বহু সংগ্রাম ও অগ্রগতির সাক্ষী। রাজনৈতিক অস্থিরতা তার গতিপথে ব্যাঘাত ঘটালেও এ জাতি তার সংকল্পে অটল। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কীভাবে আমরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করি। উন্নয়ন তখনই স্থায়ী হবে যখন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের জন্য ন্যায়ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৫০ জনের বেশি নিহত

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আফগানিস্তানে ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

দেশটির পূর্বাঞ্চলের পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ছিলো ৬। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানায়।

রোববার গভীর রাতে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ সময় দেশটির বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন।

দেশটির কর্মকর্তারা সোমবার জানান, এ ভূমিকম্পের আঘাতে ২৫০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আনাদোলুকে জানান, ভূমিধসের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলো বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না, তাই প্রশাসন আহতদের উদ্ধার ও বিমানে তোলার জন্য হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং কমপক্ষে ৫০০ জন আহত হয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, আফগানিস্তানের স্থানীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, নাঙ্গারহার ও কুনার প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যেই ১১৫ জনের বেশি আহতকে ভর্তি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। এরপর অন্তত আরও তিনটি কম্পন হয়েছে, সেগুলোর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ২ পর্যন্ত।

ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি কয়েক সেকেন্ড ধরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে (যা উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিমি দূরে) এবং পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও (প্রায় ৪০০ কিমি দূরে) অনুভূত হয়।

তালেবান সরকারের কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজে সহায়তা দিতে ত্রাণ সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

কুনার প্রদেশের পুলিশ প্রধান বিবিসিকে বলেন, বন্যা ও ভূমিকম্প-পরবর্তী ধসের কারণে সড়কপথ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধারকাজ এখন কেবল আকাশপথে করা সম্ভব।

তালেবান কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। তাই তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে হেলিকপ্টারসহ সাহায্য চেয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো যায়।

বর্তমান অস্থিরতা থেকে আমাদেরকেই মুক্তি আনতে হবে

এই আধুনিক সভ্যতা বৈজ্ঞানিক উন্নতি মানবতাবোধ ন্যায়বিচার সত্য প্রতিষ্ঠান আপনাদের সহ্য হবে না আপনারা সেই মীরজাফরের আমলে চলে যান এটাই ভালো হবে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন সময়ের সাথে এক অনিবার্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রের অভিযাত্রা, উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পথে এ অস্থিরতা বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের বাস্তবতায়, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিভাজন, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকট, এবং নাগরিক অধিকার সংকোচনের মতো ইস্যুগুলো আরও প্রকট। এই সম্পাদকীয় নিবন্ধে রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল কারণ, এর বহুমাত্রিক প্রভাব, এবং উত্তরণের কার্যকর দিকগুলি পর্যালোচনা করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, বিরোধীদলের দমন, এবং নির্বাহী বিভাগের ওপর অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিয়েছে। একদলীয় প্রাধান্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে প্রতিহিংসায় রূপান্তর করেছে।

নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি, কিংবা ভোটাধিকারের বাধাগুলো নাগরিকদের নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে দেখতে বাধা দেয়। ফলে জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ক্ষীণ হয় এবং ক্ষোভ জন্ম নেয়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমালোচনামূলক সংবাদমাধ্যমের অবস্থা, এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন—এই তিনটি বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাব দেশে বাকস্বাধীনতা হ্রাস করেছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম উৎস।

শিক্ষিত যুব সমাজের কর্মসংস্থানের সংকট ও রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত থাকার অনুভূতি নতুন প্রজন্মের মাঝে এক ধরনের নিরাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে, যা অস্থিরতাকে উসকে দেয়।

রাজনৈতিক বিভক্তি আজ পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আনুগত্য জাতিকে সংঘাতের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

অনিশ্চয়তা ও অনিরাপত্তার কারণে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করতে শুরু করেছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে পারে।

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পুলিশি নির্যাতন ও নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনকে নির্দেশ করছে।

উত্তরণের প্রথম ধাপ হিসেবে জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ। সকল প্রধান রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে গণতান্ত্রিক সংলাপ শুরু করতে হবে যেখানে নির্বাচনের পদ্ধতিগত সংস্কার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও মানবাধিকার বিষয়ে একটি সহমত গড়ে উঠবে।

একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করতে হবে যাতে নাগরিকরা নির্বাচনের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার রোধ এবং তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করতে হবে।

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রজন্মকে ক্ষমতায়িত করা সম্ভব।

দেশের নীতিনির্ধারণে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্তি একটি সুশীল, নৈতিক সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে। এক্ষেত্রে সম্পাদক, শিল্পী ও দার্শনিকদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

বাংলাদেশের ইতিহাস বহু সংগ্রাম ও অগ্রগতির সাক্ষী। রাজনৈতিক অস্থিরতা তার গতিপথে ব্যাঘাত ঘটালেও এ জাতি তার সংকল্পে অটল। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কীভাবে আমরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করি। উন্নয়ন তখনই স্থায়ী হবে যখন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের জন্য ন্যায়ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে।