আত্মানুভূতি : আমার আলো..
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ২৫৮ বার পড়া হয়েছে
ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ একজন ভারতীয় শিক্ষাবিদ। তিনি একজন গবেষক, লেখক, পরিবেশবিদ এবং সংগঠক। উচ্চ ও মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় শতাধিক বই রয়েছে। পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক কলাম লেখায় হাত লাগান। তাছাড়া সমসাময়িক বিষয়েও কলাম লিখেন সমাজচিন্তক এই শিক্ষাবিদ। আজকের লেখাটি তার আত্মানুভূতির একটা অংশ মাত্র।
ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ
যখন আমরা জীবনে একটু একটু করে সাফল্য পেতে শুরু করি তখন আমদের অনেকেই অতীতকে ইতিহাস ভুলে যাই। আর এর সঙ্গে যোগ হয় আত্ম-অহঙ্কার। অহঙ্কারে মত্ত হয়ে বলে ফেলি ‘আমার সবটুকু আলো আমার’ই কৃতিত্ব, আসলে তা নয়।
আসলে এই আলো জ্বালতে সাহায্য করেছেন বহু মানুষ, যারা অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গেছেন। আমার ২০ বছরের অধিক কর্মজীবনের সাড়ে পাঁচ বছর বাইরে ছিলাম। তখন বহু মানুষ যাদের সঙ্গে আগে কোনো পরিচয় ছিলনা, দিনের পর দিন পাশে থেকেছেন। জীবনে যেটুকু পড়াশোনা করেছি তাতে বহু লাইব্রেরিয়ান-এর অবদান রয়ে।
এ অবস্থায় একজনের কথা মনে পড়ে। তিনি হচ্ছেন বাবলুদা। গ ঊফ পড়ার সময় বাবলুদা আমাকে বেশ কিছু রেফারেন্সের বই লেন্ডিং এ পড়ার আর নোটস করার সুযোগ দিয়েছিলেন। আমি নেট সার্ফিং করতে শিখেছি কৃষ্ণ নগর ইঊফ কলেজের প্রাক্তন লাইব্রেরীয়ান মকবুলের কাছ থেকে।
গবেষণার সময় ও আমাকে বহু রেফারেন্সের জন্য সহায়তা করেছে। বিভিন্ন সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে অনেক সুযোগ দিয়েছেন, যে কারণে আমি যরমযবৎ ংঃঁফরবং করতে পেরেছি এবং বই লেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে সহজ হয়েছে।
আমার জীবনের প্রথম প্রকাশকের কাছে আমি ঋণী, যিনি আমার চয উএর সময় গাইড আমাকে নিজের থালা থেকে টিফিন খাইয়েছেন ছোটো বোনের মত। শুধু তাই নয় আমার কলিগ আমার নন টিচিং স্টাফ, স্টুডেন্ট, ম্যানেজমেন্ট বিভিন্ন সময় নানা ভাবে পাশে থেকেছেন।
গ্রীন বাংলা প্রকল্পে নিজের কাজ পণ্ড করে সঙ্গে থেকেছেন মহুয়া দি। পরামর্শ দিয়েছেন পাশেও দাঁড়িয়েছেন। আমার কলেজের বুড়ো দা, গঙ্গা দা যাঁরা পরম যত্নে ভাত বেড়ে খাওয়ান সেই মুখগুলোকে অস্বীকার করি কি করে।
বাড়ির লোকের কথা তো ছেড়েই দিলাম। তারা তো পাশে আছেনই এবং সাধ্যমত এমনকি পারিচারিকা, ড্রাইভার অন্য কর্মচারী সকলেই আমার জন্য দাঁড়িয়েছেন কোনো না কোনো সময় কোনো না কোনো ভাবে সহায্যের হাত বাড়ায়। শুধু কি তাই, আমার একমাত্র সন্তান, সেও স্যাক্রিফাইস করে।

কারণ, কলেজের দায়িত্ব সামলানো ছাড়াও লেখালেখি, সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় প্রায় সময় আমাকে বাড়ির বাইরে বেরুতে হচ্ছে। তখন আমার ছেলে সন্তানটিরও সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া হয়ে ওঠে না। তবে সে আমার ব্যস্তকে বুঝতে পারে। তাই কোন বায়না ধরে না।
এ অবস্থায় বলতে পারি, আমার আজ যা যা আছে তা কীকরে একার হল? আমার পথ চলার শব্দের সঙ্গে এদের শব্দ মিশে আছে। আমার পথচলার আলোর সঙ্গে মিশে আছে এই সকল মানুষগুলোর রশ্মি! সেই শক্তিতে আমার জীবনের পূর্ণতা। তাতো অস্বীকার করলে চলবে না।
আজ এই ছোট আত্মানুভূতি কোন দুর্বলতা নয়, সময় এবং সহায়তাকে স্বীকার করা। এতে কেউ ছোট হয়ে যাবে না। একজন শিক্ষক হিসাবে বলবো, একজন সচেতন মানুষের এমনটাই হওয়া উচিৎ। কারণ, প্রতিটি মানুষের বেড়ে ওঠার পেছনে পরিবার এবং সমাজের বহু মানুষের অবদান রয়েছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কোন ব্যক্তি হয়ে ওঠবেন আরও মহৎ।
আমার আজকের সাফল্যের জন্য যদি কেউ এক মূহুর্ত পাশে দাড়িয়ে থাকে তাকে কখনোই এই দায় থেকে বঞ্চিত করতে পারিনা..



















