অমর একুশে বইমেলামেলা শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:১৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
ভাষার মাসে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। মাসব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে ইতোমধ্যে রাজধানীর বইপাড়া সরগরম। এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন।
স্বাধীন বাংলাদেশে বইমেলার বীজ রোপণ করেন মুক্তধারা ও পুঁথিঘর প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৭৪ সালের ১৪ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নিজের প্রকাশিত বই মাটিতে চট বিছিয়ে বিশেষ কমিশনে বিক্রি করেন।
১৯৭৫ সালে একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বই বিক্রির অনুমতি চাইলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজনটি নতুন মাত্রা পায়। পরবর্তী তিন বছরে মেলার পরিধি বাড়তে থাকে। ১৯৭৮ সালে সরকার একে পূর্ণাঙ্গ বইমেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি আয়োজনে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয়।

১৯৮৪ সালে প্রণীত হয় বিধিবদ্ধ নীতিমালা এবং মেলার নামকরণ হয় ‘অমর একুশে বইমেলা’ যা আজ বাঙালির সংস্কৃতিচর্চার সবচেয়ে বড় মিলনমেলায় পরিণত।
২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত (ছুটির দিন ছাড়া) প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে, যেখানে সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা ও সমকালীন নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
এবারের মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান। মোট ইউনিট সংখ্যা ১,০১৮। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা বিকল্প সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত। শিশুদের জন্য থাকছে পৃথক শিশুচত্বর ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট নিয়ে।

প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ পালিত হবে, যেখানে গল্পপাঠ, চিত্রাঙ্কন ও বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম আয়োজন করা হবে। মেলাকে জিরো ওয়েস্ট ও পরিবেশবান্ধব করতে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।
মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রদান করা হবে চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই, কাইয়ুম চৌধুরী এবং নতুন প্রবর্তিত সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার। ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকে জন্ম নেওয়া এই মেলা কেবল বই কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক প্রতিফলন। প্রতিবছর যেমন নতুন লেখক-প্রকাশকের আত্মপ্রকাশ ঘটে, তেমনি পাঠক-লেখকের সরাসরি সংযোগও তৈরি হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও বইয়ের ঘ্রাণে, আলোচনার উন্মাদনায় আর সৃজনের দীপ্তিতে প্রাণ ফিরে পাবে একুশের চেতনা।










