ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঘ-হাতি শিকারে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা নির্বাচনী মাঠে এখনো সমান সুযোগ, সম্প্রীতির বাংলাদেশই লক্ষ্য: প্রেস সচিব ইসলামী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে টেকসই উন্নয়ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সূচনা মাদুরোর নজির টেনে কাদিরভের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আহ্বান জেলেনস্কির এবার পাতানো নির্বাচন হবে না: কড়া বার্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনের মোদিকে শায়েস্তা করতে ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ? ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ৭ লাখ ২৮ হাজার প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে ইসি এলপিজি ঘিরে নীরব অর্থনৈতিক সন্ত্রাসে জিম্মি ভোক্তা, কঠোর পদক্ষেপের দাবি ইসমত শিল্পীর কবিতা ‘অশ্রুবাষ্প’ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড নীতিতে বাংলাদেশ: সর্বোচ্চ গুণতে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা

অনুমোদনের জটিলতায় এলপিজি বাজার অচল, ভোক্তার ঘাড়ে দুর্ভোগের বোঝা

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৩ বার পড়া হয়েছে

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এখন শুধু রান্নার জ্বালানি নয়, শহর গ্রামজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য প্রয়োজন। অথচ প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেই প্রয়োজনীয় জ্বালানিই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮০০ থেকে হাজার টাকা বেশি দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না অনেক ভোক্তা। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার।

এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকায় আধুনিক চুলা অচল হয়ে পড়েছে। বিকল্প জ্বালানি না পেয়ে মানুষ ফিরছে পুরোনো লাকড়ির চুলার কাছে। ঢাকার বিভিন্ন বস্তি নিম্নআয়ের এলাকায় এখন লাকড়ির আগুনেই চলছে দৈনন্দিন রান্না। একদিকে রান্নার দুর্ভোগ, অন্যদিকে ধোঁয়া স্বাস্থ্যঝুঁকিসব মিলিয়ে ভোগান্তি চরমে।

অভিযোগ রয়েছে, এই সংকটকে পুঁজি করে একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একাধিক এলপিজি কোম্পানি আমদানি কমিয়ে দেয় কিংবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এমন বাস্তবতায় যেসব কোম্পানি এখনও সক্রিয় রয়েছে, তারা আমদানি বাড়াতে বারবার আবেদন করলেও সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানি সীমা শিথিল করা হলে বাজারে এই সংকট তৈরি হতো না। এর দায় সরাসরি প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা।
রাজশাহী ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা।

এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানায়, দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কার্যকরভাবে আমদানি করছে মাত্র ১০টি। অধিকাংশ কোম্পানি ব্যাংকঋণ, এলসি খোলা নীতিগত জটিলতায় কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ফলে বাজারে সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অথচ সরকারের দাবি দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

ভোক্তাদের প্রশ্ন, যদি পর্যাপ্ত মজুতই থাকে, তবে বাজারে সিলিন্ডার মিলছে না কেন? কেন রাতারাতি দাম কয়েক টাকা বেড়ে যায়? কেন একজন গৃহিণী দিনের পর দিন দোকান ঘুরেও রান্নার জ্বালানি জোগাড় করতে পারেন না?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের নির্ধারিত আমদানি সীমা তাদের হাতপা বেঁধে দিয়েছে। সক্ষমতা থাকলেও তারা অতিরিক্ত এলপিজি আনতে পারছেন না। এমনকি বড় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ এলপিজি প্রায় দুই বছর ধরে বাড়তি আমদানির অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অনুমোদনের জটিলতায় এলপিজি বাজার অচল, ভোক্তার ঘাড়ে দুর্ভোগের বোঝা

আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এখন শুধু রান্নার জ্বালানি নয়, শহর গ্রামজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য প্রয়োজন। অথচ প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেই প্রয়োজনীয় জ্বালানিই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮০০ থেকে হাজার টাকা বেশি দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না অনেক ভোক্তা। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার।

এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকায় আধুনিক চুলা অচল হয়ে পড়েছে। বিকল্প জ্বালানি না পেয়ে মানুষ ফিরছে পুরোনো লাকড়ির চুলার কাছে। ঢাকার বিভিন্ন বস্তি নিম্নআয়ের এলাকায় এখন লাকড়ির আগুনেই চলছে দৈনন্দিন রান্না। একদিকে রান্নার দুর্ভোগ, অন্যদিকে ধোঁয়া স্বাস্থ্যঝুঁকিসব মিলিয়ে ভোগান্তি চরমে।

অভিযোগ রয়েছে, এই সংকটকে পুঁজি করে একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একাধিক এলপিজি কোম্পানি আমদানি কমিয়ে দেয় কিংবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এমন বাস্তবতায় যেসব কোম্পানি এখনও সক্রিয় রয়েছে, তারা আমদানি বাড়াতে বারবার আবেদন করলেও সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানি সীমা শিথিল করা হলে বাজারে এই সংকট তৈরি হতো না। এর দায় সরাসরি প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা।
রাজশাহী ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন অসহায়, লাকড়ির চুলাই শেষ ভরসা।

এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানায়, দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কার্যকরভাবে আমদানি করছে মাত্র ১০টি। অধিকাংশ কোম্পানি ব্যাংকঋণ, এলসি খোলা নীতিগত জটিলতায় কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ফলে বাজারে সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অথচ সরকারের দাবি দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

ভোক্তাদের প্রশ্ন, যদি পর্যাপ্ত মজুতই থাকে, তবে বাজারে সিলিন্ডার মিলছে না কেন? কেন রাতারাতি দাম কয়েক টাকা বেড়ে যায়? কেন একজন গৃহিণী দিনের পর দিন দোকান ঘুরেও রান্নার জ্বালানি জোগাড় করতে পারেন না?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের নির্ধারিত আমদানি সীমা তাদের হাতপা বেঁধে দিয়েছে। সক্ষমতা থাকলেও তারা অতিরিক্ত এলপিজি আনতে পারছেন না। এমনকি বড় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ এলপিজি প্রায় দুই বছর ধরে বাড়তি আমদানির অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।