শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সম্পদ জব্দের আদেশ আদালতের
- আপডেট সময় : ০২:৩০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে
জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পরই দুই ব্যক্তির প্রকৃত সম্পদ কত, এ নিয়ে জনমনে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তারা যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তাঁদের ঘোষিত সম্পদের বিস্তারিত জানা যায়।
হলফনামা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের নামে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন। হাতে নগদ ছিল মাত্র সাড়ে ২৮ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ।
এছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) দেখানো হয়। তিনটি মোটরগাড়ির মধ্যে দুটির মূল্য দেখানো হয় সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা; আরেকটি উপহার হিসেবে পাওয়া হলেও তার দাম উল্লেখ ছিল না। সোনা ও মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবের মূল্য ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

শেখ হাসিনার নামে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ আছে, যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয় ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। গাজীপুরের তেলিরচালা এলাকায় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের নামে রয়েছে প্রায় ৯ বিঘা জমির বাগানবাড়ি, যা বঙ্গবন্ধুর নামে দান করা জমি থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া।
এছাড়া পূর্বাচলে তাঁর নামে একটি প্লট রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয় ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি, তাঁর সন্তান ও বোনের পরিবারসহ মোট ছয়জনের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ হয়েছিল, যা নিয়ে বর্তমানে দুদকের মামলা চলছে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর নামে তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক জমি রয়েছে, যার অর্জনমূল্য দেখানো হয় ৫ লাখ টাকা।
দুদক এক ব্রিফিংয়ে জানায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা জমির তথ্য গোপন করেছিলেন। হলফনামায় ৬ দশমিক ৫০ একর জমির কথা উল্লেখ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁর নামে ছিল ২৮ একর ৪১ শতক জমি।
এ বিষয়টি কমিশন নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিল। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটির মালিকানা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ট্রাস্টের হাতে, আর সুধা সদনের মালিকানা সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের নামে।
অন্যদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তাঁর হলফনামায় হাতে নগদ দেখান ৮৪ লাখ টাকার বেশি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দেখান প্রায় ৮২ লাখ, বন্ড ও শেয়ার প্রায় ২৪ লাখ এবং সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত দেখান ২ কোটি ১ লাখ টাকা।

দুটি মোটরগাড়ির মূল্য দেখান ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কৃষিজমি ছিল ১৭১ শতাংশ, ক্রয়মূল্য ১ কোটি ৬ লাখ টাকা; অকৃষিজমি সাড়ে ১৮ শতাংশ, ক্রয়মূল্য সাড়ে ৫৮ লাখ। গ্রামের বাড়ি ও অন্য সম্পদ মিলিয়ে তাঁর ঘোষিত মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা (সোনা বাদে)।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জ্ঞাত আয়ের বাইরে আরও ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদের মালিকানা রয়েছে তাঁর। এ বিষয়ে মামলাও করেছে সংস্থাটি।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। আসাদুজ্জামানের অবস্থানও ভারতে বলে জানা যায়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনাল তাঁদের দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ে দুজনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়।



















