ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

মিরপুরের রূপনগরে ১৬ জনের মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাসে নয়, আগুনে পুড়েই

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৫২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

মিরপুরের রূপনগরে ১৬ জনের মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাসে নয়, আগুনে পুড়েই প্রাণহানি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার মিরপুরের রূপনগর শিয়ালবাড়ি এলাকার কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, সবাই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যু আগুনে পুড়ে হয়েছে। বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এখন পর্যন্ত ১০টি মরদেহের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল এলাকায়। কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন, কেউ আবার প্রিয়জনের নাম ধরে কাঁদছেন। রূপনগরের সরু গলির সেই টিনশেড গোডাউন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দাহ্য কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্য থাকায় মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। টানা সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের বেশিরভাগই পোশাকশিল্পের শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ভেতরে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ ছিল। তাপ ও ধোঁয়ার তীব্রতায় অনেকে বের হতে পারেননি।

রূপনগরের এই অগ্নিকাণ্ড শুধু ১৬টি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, একেকটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। হাসপাতালের বারান্দায় এক মা ছেলের ছবি আঁকড়ে ধরে বলছিলেন, সে সকালে কাজে গিয়েছিল, আর ফিরল না।

এই একটি দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে, শ্রমিক নিরাপত্তা আর কেমিক্যাল গুদাম ব্যবস্থাপনায় আমরা কতটা প্রস্তুত?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মিরপুরের রূপনগরে ১৬ জনের মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাসে নয়, আগুনে পুড়েই

আপডেট সময় : ০৪:৫২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকার মিরপুরের রূপনগর শিয়ালবাড়ি এলাকার কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, সবাই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যু আগুনে পুড়ে হয়েছে। বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এখন পর্যন্ত ১০টি মরদেহের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল এলাকায়। কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন, কেউ আবার প্রিয়জনের নাম ধরে কাঁদছেন। রূপনগরের সরু গলির সেই টিনশেড গোডাউন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দাহ্য কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্য থাকায় মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। টানা সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের বেশিরভাগই পোশাকশিল্পের শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ভেতরে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ ছিল। তাপ ও ধোঁয়ার তীব্রতায় অনেকে বের হতে পারেননি।

রূপনগরের এই অগ্নিকাণ্ড শুধু ১৬টি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, একেকটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। হাসপাতালের বারান্দায় এক মা ছেলের ছবি আঁকড়ে ধরে বলছিলেন, সে সকালে কাজে গিয়েছিল, আর ফিরল না।

এই একটি দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে, শ্রমিক নিরাপত্তা আর কেমিক্যাল গুদাম ব্যবস্থাপনায় আমরা কতটা প্রস্তুত?