ভূমিকম্পে ছেলের মৃত্যু কথা জানেনই না অপারেশন থিয়েটারে লড়াই করা মা
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার বংশালে ভূমিকম্পে আহত হয়ে অপারেশন থিয়েটারে শুয়ে আছেন নুসরাত। প্রচণ্ড ব্যথায় কাতর শরীর, তবু ছেলের খোঁজ নিতে এক মুহূর্তও থামছেন না তিনি। বারবার জিজ্ঞেস করছেন, রাফি কেমন আছে? অথচ কেউই সাহস করে জানানোর মতো অবস্থায় নেই।
কারণ তার নাড়িছেঁড়া সন্তান, মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফি, আর কোনোদিন চোখ মেলে পৃথিবী দেখবে না।
বগুড়ার বাড়ি থেকে দূরে মা ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি। বাবা চাকরি করেন দিনাজপুরে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে হালকা বাজার সেরে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার কথা ছিল।
বংশালের কসাইতুলির নয়নের মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা। ঠিক তখনই শুরু হয় তীব্র ভূমিকম্প। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে মা–ছেলের ওপর।
সহপাঠী অপু জানান, আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যায় রাফির জীবন। ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, রেলিংয়ের আঘাতে ছেলেটির মাথা ও মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মা নুসরাত গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। চিকিৎসকরা জানালেও এখনো তাকে ছেলের মৃত্যুসংবাদ দেওয়া হয়নি। অপু বলেন, তিনি নিজেও প্রচণ্ড ট্রমার মধ্যে আছেন। এখনই এমন শোক তাকে জানানো অসম্ভব।
এদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন রাফির একমাত্র বোন। ভাইয়ের নিথর দেহ আর অপারেশন থিয়েটারে লড়াই করা মাকে দেখে তিনি ভেঙে পড়েন।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারা দেশে অনুভূত হয় ভূমিকম্পটি। মাত্রা ছিল ৫.৭। শুধু বংশালেই রেলিং ভেঙে মারা যান তিন পথচারী—তাদের একজন রাফি। অল্প সময়ের তীব্র একটি কম্পন এভাবেই একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ আর আনন্দ কেড়ে নিলো নির্মমভাবে।



















