ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তে স্বপ্ন থমকে গেল লাখো বাংলাদেশির
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে লাখো বাংলাদেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তবে পর্যটন, শিক্ষার্থী, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা এ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থায় মূলত দুই ধরনের ভিসা রয়েছে, ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী ভিসা এবং নন-ইমিগ্রান্ট বা অস্থায়ী ভিসা। অভিবাসী ভিসার মাধ্যমে কেউ গ্রিন কার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে স্থায়ী বাসিন্দা হন। পরিবারভিত্তিক ভিসা, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, সন্তান ও ভাই-বোনের পুনর্মিলন এবং কর্মভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব আবেদন প্রক্রিয়াকরণ আপাতত বন্ধ থাকবে।
আইনজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সেখানে নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করে রেখেছেন। কেউ সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায়, কেউ চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলেন। নতুন নীতির কারণে তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে যাঁরা নতুন করে স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তাঁরাও আপাতত সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। এটি পরিবার পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে একটি মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ অর্থবছরে প্রায় ১৪ হাজার ৫৮০ জন বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নন-ইমিগ্রান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরবর্তীতে বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। ফলে নতুন সিদ্ধান্তে মূলত গ্রিন কার্ড ও স্থায়ী বসবাস প্রত্যাশীদের ওপরই বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং সরকারি জনকল্যাণ তহবিলের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত থাকার সময়ে পুরো ব্যবস্থাটি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
তবে আইনজীবীরা আশা করছেন, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে এবং আদালতের রায়ে ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে তাঁরা উল্লেখ করেছেন, অভিবাসী ভিসা স্থগিত থাকলেও শিক্ষার্থী, পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং সেগুলো আরও দ্রুত হতে পারে।
সার্বিকভাবে, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বহু পরিবারের জন্য মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও কূটনৈতিক ও মানবিক আলোচনার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান আসবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















