ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্তের ঋণ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী
- আপডেট সময় : ০৯:২০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৯৭ বার পড়া হয়েছে
ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে আইটেক দিবস-২০২১
‘আগামী পাঁচ বছরে সিভিল সার্ভিসের প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন কর্মকর্তাকে ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিচার বিভাগের প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ছাড়াও পুলিশ সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে’
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্তের বন্ধন বা ঋণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় দু’দেশের যোদ্ধারা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। দু’দেশ থেকে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে। আমরা তাদের মতো অন্যদের শাসন করিনি বরং শাসিত হয়েছি। কোনো দেশে হামলা চালিয়ে
তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেনি বরং উপমহাদেশ নিজের সম্পদ কাজে লাগিয়েই আজকের অবস্থানে এসেছে।
৫৭তম ভারতীয় কারিগরি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা (আইটেক) দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে
(আইডিইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বকত্তব্য দিতে গিয়ে এমন আবেগন মন্তব্য করেন বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কৌশল কাঠামোর আওতায় ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইটেক কর্মসূচি প্রচলিত হয় যার মাধ্যমে
উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ভারতের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও উপযুক্ত প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদান করা হয়। প্রতি বছর হিসাব, নিরীক্ষা, ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, গ্রামীণ উন্নয়ন, সংসদীয়
বিষয়াবলীর মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য ১৬১টি সহযোগী দেশে ১০ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণ পর্বের আয়োজন করা হয়। আইটেক সহযোগিতায় বাংলাদেশ আমাদের প্রধানতম এবং
গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। গত বছর কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ই-আইটেকের অধীনে বেশ কয়েকটি ভার্চুয়াল কোর্সের আয়োজন করা হয়েছিল। এসব কোর্সের মধ্যে ছিল প্রথম সারির
বিভিন্ন ভারতীয় ইনস্টিটিউটে নারীকেন্দ্রিক প্রোগ্রাম, কোভিড ব্যবস্থাপনা, সুশাসন অনুশীলন, ডেটা অ্যানালিটিক্স, দূর অনুধাবন, অ্যাডাল্ট হেপাটোলজি ইত্যাদি বিষয়ক কোর্স।

আইটেক কর্মসূচি নিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আইটেক একটি দারুণ কর্মসূচি। এটা বাংলাদেশের মধ্যকার স্বাভাবিক মেলবন্ধন, যা দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে প্রতি মুহূর্তেই পরিলক্ষিত হয়। আমাদের দু’দেশের মধ্যকার এ সহজাত ভ্রাতৃত্ববোধ উদযাপন করার জন্য আইটেক দারুণ মাধ্যম।
এসময় শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নের বিষয়ে ভারত আমাদের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। যেমন গ্রামীণ উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থাগুলো কিভাবে সরকারের
সহযোগী হয়ে কাজ করছে, সেই অভিজ্ঞতা তারা আমাদের থেকে নিতে পারে। আমাদের দু’দেশের মধ্যে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে। দু’দেশ এসব
বিষয়ে একযোগে কাজ করতে পারি। এ ধরনের কর্মসূচি কাজের সেই সুযোগই বৃদ্ধি করে। আমরা যে দক্ষতামূলক শিক্ষার কথা বলি, সেটা ভারতের কাছ থেকে আমরা শিখতে পারি।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, আইটেক আমাদের ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম। আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা এ প্রকল্পের পার্টনার বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মতো দেশগুলো।
আইটেক দেশগুলোর মধ্যে আবেগ’র পাশাপশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। প্রায় দুই লাখের বেশি পেশাজীবীর দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে এ প্রোগ্রাম। এটা শুধু ভারতে স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করার বিষয় নয়। বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পেশাজীবীদের
এক জায়গায় একত্রিত করা যায়, যার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দায়িত্বরত ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা আরও দক্ষ হতে পারেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য ভারতের সেরা সব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ সাপেক্ষে বিশেষায়িত কিছু প্রোগ্রামও রয়েছে আমাদের। এখানকার সাংবাদিকদের জন্যও আমাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে আইটেক কর্মসূচির অধীনে ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশী তরুণ পেশাজীবী ভারতে এ ধরনের বিশেষায়িত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী কোর্স সম্পন্ন করেছে।

আগামী পাঁচ বছরে সিভিল সার্ভিসের প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন কর্মকর্তাকে ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিচার বিভাগের প্রায় এক হাজার ৫০০ জন ছাড়াও পুলিশ সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ‘এর মাধ্যমে যে শুধু তারাই শিখছেন সেটি নয় বরং আমরাও
শিখছি। আইটেক উভয় দেশের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ে একটি সেতুর মতো কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন হাইকমিশনার।’
বিশিষ্ট অতিথিবর্গ ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে প্রায় ১০০ জন প্রাক্তন আইটেক শিক্ষার্থী আইটেক দিবসের এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। চলমান মহামারী বিধিনিষেধ বিবেচনায় সীমিত পরিসরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের
ঊর্ধ্বতন আধিকারীক ছাড়াও আইটেক কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ পাওয়া বিভিন্ন অ্যালামনাই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




















