ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পর পাকিস্তানের অস্ত্র রফতানিতে জোয়ার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৩ বার পড়া হয়েছে

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পর পাকিস্তানের অস্ত্র রফতানিতে জোয়ার

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাত শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনাই বাড়ায়নি, বরং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শনের পর পাকিস্তানের অস্ত্র রফতানিতে অভূতপূর্ব আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একের পর এক দেশ ইসলামাবাদের সঙ্গে অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় বসছে, যা দেশটির অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত বছরের ৭ মে ভোরে পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত। পাল্টা জবাবে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাকিস্তান। ওই সংঘাতে ভারতের অত্যাধুনিক রাফালসহ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় বলে পাকিস্তানের দাবি। একই সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হয়। উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংঘাত পাকিস্তানের জন্য কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং অস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে ‘ব্যাটল-টেস্টেড’ তকমা পাওয়ার সুযোগ এনে দেয়। যুদ্ধে পাকিস্তান জেএফ-১৭ থান্ডার মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, আল-খালিদ ট্যাংক এবং ফাতাহ সিরিজের গাইডেড মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (জি-এমএলআরএস) ব্যবহার করে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ২০১৯ সালের সংঘাত এবং সর্বশেষ যুদ্ধে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে বলে দাবি করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই যুদ্ধবিমান ভারতের পাঞ্জাবে মোতায়েন এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জিও নিউজকে বলেন, অস্ত্র শিল্পের এই সাফল্য দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের বিমানগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত। এত বেশি অর্ডার আসছে যে ছয় মাসের মধ্যে আইএমএফের দরকারই নাও হতে পারে।”

যুদ্ধের পর থেকেই পাকিস্তান যেসব দেশের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি করেছে বা আলোচনা চালাচ্ছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন—

১২ জানুয়ারি ২০২৬: ইন্দোনেশিয়া ৪০টির বেশি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ দেখায়। রয়টার্স জানায়, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফ্রি শামসোউদ্দিন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় জেএফ-১৭ ছাড়াও শাহপর ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

১০ জানুয়ারি ২০২৬: ইরাকের বিমানবাহিনী জেএফ-১৭ কেনার বিষয়ে ‘গভীর আগ্রহ’ প্রকাশ করে। ইরাকি বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান কেনার বিষয়েও আগ্রহ জানান।

৭ জানুয়ারি ২০২৬: সৌদি আরবের সঙ্গে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ঋণকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে রূপান্তরের আলোচনা শুরু হয়। পুরো চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বলে সূত্র জানায়।

৬ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ জানায়। দুই দেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের বৈঠকে প্রশিক্ষণ বিমান, পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

২২ ডিসেম্বর ২০২৫: লিবিয়ার সঙ্গে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি চূড়ান্ত করে পাকিস্তান। এতে জেএফ-১৭ ও সুপার মুশশাকসহ স্থল, নৌ ও আকাশপথের সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে সংঘাতের পর পাকিস্তান নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুনভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত অস্ত্রের এই সাফল্য পাকিস্তানকে একটি উদীয়মান অস্ত্র রফতানিকারক দেশে পরিণত করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পর পাকিস্তানের অস্ত্র রফতানিতে জোয়ার

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাত শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনাই বাড়ায়নি, বরং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শনের পর পাকিস্তানের অস্ত্র রফতানিতে অভূতপূর্ব আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একের পর এক দেশ ইসলামাবাদের সঙ্গে অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় বসছে, যা দেশটির অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত বছরের ৭ মে ভোরে পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত। পাল্টা জবাবে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাকিস্তান। ওই সংঘাতে ভারতের অত্যাধুনিক রাফালসহ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় বলে পাকিস্তানের দাবি। একই সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হয়। উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংঘাত পাকিস্তানের জন্য কেবল সামরিক সাফল্য নয়, বরং অস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে ‘ব্যাটল-টেস্টেড’ তকমা পাওয়ার সুযোগ এনে দেয়। যুদ্ধে পাকিস্তান জেএফ-১৭ থান্ডার মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, আল-খালিদ ট্যাংক এবং ফাতাহ সিরিজের গাইডেড মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (জি-এমএলআরএস) ব্যবহার করে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ২০১৯ সালের সংঘাত এবং সর্বশেষ যুদ্ধে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে বলে দাবি করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই যুদ্ধবিমান ভারতের পাঞ্জাবে মোতায়েন এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জিও নিউজকে বলেন, অস্ত্র শিল্পের এই সাফল্য দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের বিমানগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত। এত বেশি অর্ডার আসছে যে ছয় মাসের মধ্যে আইএমএফের দরকারই নাও হতে পারে।”

যুদ্ধের পর থেকেই পাকিস্তান যেসব দেশের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি করেছে বা আলোচনা চালাচ্ছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন—

১২ জানুয়ারি ২০২৬: ইন্দোনেশিয়া ৪০টির বেশি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ দেখায়। রয়টার্স জানায়, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফ্রি শামসোউদ্দিন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় জেএফ-১৭ ছাড়াও শাহপর ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

১০ জানুয়ারি ২০২৬: ইরাকের বিমানবাহিনী জেএফ-১৭ কেনার বিষয়ে ‘গভীর আগ্রহ’ প্রকাশ করে। ইরাকি বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান কেনার বিষয়েও আগ্রহ জানান।

৭ জানুয়ারি ২০২৬: সৌদি আরবের সঙ্গে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ঋণকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে রূপান্তরের আলোচনা শুরু হয়। পুরো চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বলে সূত্র জানায়।

৬ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ জানায়। দুই দেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের বৈঠকে প্রশিক্ষণ বিমান, পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

২২ ডিসেম্বর ২০২৫: লিবিয়ার সঙ্গে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি চূড়ান্ত করে পাকিস্তান। এতে জেএফ-১৭ ও সুপার মুশশাকসহ স্থল, নৌ ও আকাশপথের সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে সংঘাতের পর পাকিস্তান নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুনভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত অস্ত্রের এই সাফল্য পাকিস্তানকে একটি উদীয়মান অস্ত্র রফতানিকারক দেশে পরিণত করছে।