বিকেল ৫টার মধ্যেই শেষ পহেলা বৈশাখের সব আয়োজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কড়াকড়ি নির্দেশনা
- আপডেট সময় : ০২:৪৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে আয়োজনের প্রতিটি ধাপকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় বৈঠক করছে।
এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান, যা উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করেছে নতুন প্রেরণা ও সামাজিক বার্তা।
নববর্ষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন আনন্দ শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় শুরু হবে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে।
বর্ণিল এই শোভাযাত্রা রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হবে।

বরাবরের মতোই এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হয়ে উঠবে।
তবে এবারের আয়োজনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিকেল ৫টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ভেতরে অবস্থানকারীরা বের হতে পারবেন।
প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে, যেখানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
তিনি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সার্বিক সমন্বয়ের জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে আহ্বায়ক করে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। নববর্ষের আগের দিন সন্ধ্যা ৭টার পর স্টিকারযুক্ত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না।
পহেলা বৈশাখের দিন পুরো ক্যাম্পাসে সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে, এমনকি মোটরসাইকেল চালানোও বন্ধ রাখা হবে।
এছাড়া মুখোশ পরে প্রবেশ ও ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে চারুকলার তৈরি মুখোশ হাতে প্রদর্শন করা যাবে। ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি থেকেও বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পাসজুড়ে স্থাপন করা হবে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে, যা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সব মিলিয়ে, ঐতিহ্য ও নিরাপত্তার সমন্বয়ে এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপন হতে যাচ্ছে আরও সুশৃঙ্খল, আনন্দমুখর ও স্মরণীয়।









