ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, তেলের দাম লাগামছাড়া চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাঙালীর কমফোর্ট ফুড: গোটা সেদ্ধ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ৪১৩ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি সংগ্রহ

ড. বিরাজলক্ষ্মী ঘোষ

জন্ম সূত্রে এদেশীয় অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের আদি বাসিন্দা হওয়ায়  শৈশবকাল থেকেই মাকে দেখে আসছি সরস্বতী পুজোর আগের দিন বাজার থেকে শিষ পালং, গোটা মুগ, গোটা বেগুন, গোটা শিম, গোটা কড়াইশুটি, টোপা কুল, সজনে ফুল এগুলো আনেন। সরস্বতী পুজোর দিন  বিকেলের দিকে পঞ্চমী থাকতেই পরিষ্কার হাঁড়িতে কোনও সবজি না কেটেই কাঁচা তেল নুন লঙ্কা ইত্যাদি সহযোগে সেদ্ধ করেন।

এটাই গোটা সেদ্ধ নামে পরিচিত। পরের দিন ষষ্ঠী তিথিতে মা ষষ্ঠী অর্থাৎ শিল নোড়াকে স্নান করিয়ে নতুনচেলি, সিঁদুর, সাদা দই ও মিষ্টি সহযোগে গোটা সেদ্ধ দিয়ে পুজো দেয়া হয়।

এরপর সেই গোটা সেদ্ধ নিজের পরিবার পরিচিত ও আত্মীয় স্বজনের মধ্যে বিতরণ করা হয়। পরের দিন স্নান করে  দই ভাতের সঙ্গে গোটা সেদ্ধ আমরা বরাবর খেয়ে আসছি। এটাই আমাদের বাড়ির রেওয়াজে পরিণত হয়। অনেকে এটিকে শীতল ষষ্ঠীও বলে থাকেন।

সব গোটা সবজি দিয়ে তৈরি এই গোটা সেদ্ধ স্বাদে ও গুনে অতুলনীয়। মার কাছে শুনেছি বসন্ত পঞ্চমীর পরেই আসতে আসতে গরমের হাওয়া শুরু হয়। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ সত্ত্বেও এই হাওয়া হাম, পক্স তথা বসন্ত রোগের বাহক। গোটা সেদ্ধ এর মধ্যে আছে এক অপূর্ব খাদ্য গুণ যা কিনা এই রোগগুলির প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। পেট ঠান্ডা লাগে এবং শরীর তাজা রাখে।

আসলে ধর্ম বা সংস্কারের নামে আমরা যে উপাচার গুলি প্রাচীন কাল থেকে মেনে আসছি, সেগুলির অনেকাংশেই স্বাস্থ্যসম্মত ও বৈজ্ঞানিক। তাই গোটা সেদ্ধ যে বাঙালির কমফোর্ট ফুড সেকথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আসুন না অনেক ব্যস্ততার মধ্যে একটু সময় বার করে সম্ভব হলে বাংলার এই প্রথাটি বাঁচিয়ে রাখি। আদপে আমাদের শরীর বাঁচাবে এটি।

 

লেখক : বিরাজলক্ষী ঘোষ, গবেষক, পরিবেশ সংগঠক ও সমাজ চিন্তক

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাঙালীর কমফোর্ট ফুড: গোটা সেদ্ধ

আপডেট সময় : ০৫:২৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২২

ছবি সংগ্রহ

ড. বিরাজলক্ষ্মী ঘোষ

জন্ম সূত্রে এদেশীয় অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের আদি বাসিন্দা হওয়ায়  শৈশবকাল থেকেই মাকে দেখে আসছি সরস্বতী পুজোর আগের দিন বাজার থেকে শিষ পালং, গোটা মুগ, গোটা বেগুন, গোটা শিম, গোটা কড়াইশুটি, টোপা কুল, সজনে ফুল এগুলো আনেন। সরস্বতী পুজোর দিন  বিকেলের দিকে পঞ্চমী থাকতেই পরিষ্কার হাঁড়িতে কোনও সবজি না কেটেই কাঁচা তেল নুন লঙ্কা ইত্যাদি সহযোগে সেদ্ধ করেন।

এটাই গোটা সেদ্ধ নামে পরিচিত। পরের দিন ষষ্ঠী তিথিতে মা ষষ্ঠী অর্থাৎ শিল নোড়াকে স্নান করিয়ে নতুনচেলি, সিঁদুর, সাদা দই ও মিষ্টি সহযোগে গোটা সেদ্ধ দিয়ে পুজো দেয়া হয়।

এরপর সেই গোটা সেদ্ধ নিজের পরিবার পরিচিত ও আত্মীয় স্বজনের মধ্যে বিতরণ করা হয়। পরের দিন স্নান করে  দই ভাতের সঙ্গে গোটা সেদ্ধ আমরা বরাবর খেয়ে আসছি। এটাই আমাদের বাড়ির রেওয়াজে পরিণত হয়। অনেকে এটিকে শীতল ষষ্ঠীও বলে থাকেন।

সব গোটা সবজি দিয়ে তৈরি এই গোটা সেদ্ধ স্বাদে ও গুনে অতুলনীয়। মার কাছে শুনেছি বসন্ত পঞ্চমীর পরেই আসতে আসতে গরমের হাওয়া শুরু হয়। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ সত্ত্বেও এই হাওয়া হাম, পক্স তথা বসন্ত রোগের বাহক। গোটা সেদ্ধ এর মধ্যে আছে এক অপূর্ব খাদ্য গুণ যা কিনা এই রোগগুলির প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। পেট ঠান্ডা লাগে এবং শরীর তাজা রাখে।

আসলে ধর্ম বা সংস্কারের নামে আমরা যে উপাচার গুলি প্রাচীন কাল থেকে মেনে আসছি, সেগুলির অনেকাংশেই স্বাস্থ্যসম্মত ও বৈজ্ঞানিক। তাই গোটা সেদ্ধ যে বাঙালির কমফোর্ট ফুড সেকথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আসুন না অনেক ব্যস্ততার মধ্যে একটু সময় বার করে সম্ভব হলে বাংলার এই প্রথাটি বাঁচিয়ে রাখি। আদপে আমাদের শরীর বাঁচাবে এটি।

 

লেখক : বিরাজলক্ষী ঘোষ, গবেষক, পরিবেশ সংগঠক ও সমাজ চিন্তক