বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনে কৃষিখাতে সহায়তা ও রক্ষাণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জমির অভাব, কৃষি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং বাজার ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে খাদ্য উৎপাদন চাহিদার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
তাই কৃষিখাতে সঠিক সহায়তা ও রক্ষাণাবেক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন, বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাহাবুদ্দিন ফরাজি।
সাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, কৃষি প্রযুক্তি ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। উন্নত মানের বীজ, সার, কীটনাশক এবং সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করলে ফসলের ফলন বৃদ্ধি পাবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্যোগ এবং স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়গুলোর কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সেচ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রের সহজলভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি বলেন, কৃষি খাতে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজন। ফসল বীমা, সহজ শর্তের কৃষি ঋণ এবং প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিজেদের রক্ষা করতে পারবে। এছাড়া, কৃষকদের জন্য বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা, যেখানে তারা সরাসরি ক্রেতাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবে, উৎপাদন প্রণোদনার সঙ্গে সঙ্গে আয়ের উৎসও বাড়াবে।
তিনি বেলেন, খাদ্য উৎপাদনে রক্ষাণাবেক্ষণ ব্যবস্থা অপরিহার্য। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও, সঠিক সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ না হলে খাদ্য অপচয় বৃদ্ধি পায়। সুরক্ষিত গুদাম, ঠান্ডা চেইন সিস্টেম এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার সম্প্রসারণ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক। কৃষি পণ্য অপচয় কমানো এবং স্থানীয় বাজারে সহজ সরবরাহ নিশ্চিত করা সেম্ভব হলে কৃষকের আয়ও বাড়াবে।

স্থানীয় ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জলবায়ু-সাশ্রয়ী কৃষি পদ্ধতি, প্ল্যান্টিং ক্যালেন্ডার পরিবর্তন এবং বন্যা ও খরার ঝুঁকি হ্রাসের জন্য স্থানীয় সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই কাজে যুক্ত করলে নতুন প্রযুক্তি ও ফসলের উন্নত প্রজাতি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সর্বশেষে, সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, বাংলাদেশ কৃষি ঐক্য ফাউন্ডেশন স্থানীয় কৃষক সমিতির সমন্বয় খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিখাতে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা বৃদ্ধি অপরিহার্য। ফসলের সঠিক রক্ষাণাবেক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বাজার সুবিধা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি একসাথে কার্যকর হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের জীবনমান দুটোই উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাহাবুদ্দিন ফরাজি।
এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন না হলে খাদ্য ঘাটতি ও অর্থনৈতিক অসুবিধার মুখোমুখি হতে হবে, যা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করবে। তাই এখনই সময় এসেছে কৃষিখাতে সমন্বিত, দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই নীতিমালা গ্রহণের।














