বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ভারি বর্ষণের শঙ্কা, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই
- আপডেট সময় : ০৭:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে না বলে নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, কিছু গণমাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার খবর প্রকাশিত হলেও প্রকৃত পরিস্থিতি তেমন নয়। তিনি বলেন, “আবহাওয়া বিষয়ক পরিভাষা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। আমাদের অঞ্চলে নিম্নচাপের বিভিন্ন ধাপ থাকলেও সবকিছু ঘূর্ণিঝড় নয়। তাই অনুবাদের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।”
আবহাওয়াবিদ মল্লিক আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড়কে হারিকেন বলা হয়, আবার প্রশান্ত মহাসাগরে তাকে টাইফুন বলা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় একই ধরনের ঝড়কে সাইক্লোন বলা হয়। তাই কোনো সতর্কবার্তার আক্ষরিক অনুবাদকে সরাসরি ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ধরা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
এর আগে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সারা দেশে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ১৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৮১০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ৬৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাতে ভারতের ওড়িশা ও সংলগ্ন অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বয়ে যেতে পারে। এর ফলে সাগর উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের গভীর সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা থাকলেও এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে না। তবে ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, শহরে জলাবদ্ধতা এবং সমুদ্র উপকূলে উত্তাল সাগরের ঝুঁকি থাকছে। আবহাওয়াবিদরা তাই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।



















