বঙ্গবন্ধু ৯ আগস্ট জ্বালানিখাতে ‘সৌভাগ্য শিখা’ প্রজ্জ্বলন করেন
- আপডেট সময় : ০৯:১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ অগাস্ট ২০২১ ২৭৯ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগৃহিত
স্বাধীন অথচ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন জাতির পিতা। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে কিছু নেই। দেশবিরোধী শক্তি সোনার বাংলাকে ধ্বংস্তুপে পরিণত করেছে। চারিদিকে হাহাকার। কাতারে কাতারে ফিরছে শরণার্থীরা। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের দৃশ্যপট বলতে যা বোঝায়। প্রায় অন্ধকার
বিমানবন্দর এসে নামলেন তিনি। দেখা গেলো যুদ্ধে সবকিছু কেড়ে নিলেও বাঙালি তাদের গণনায়ককে ভুলে যাননি। তাকে পেয়ে হাজারো কষ্ট ভুলে গিয়ে ফের জেগে ওঠেছেন, দেশ গড়ায় এটাই তার বড় শক্তি।
দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েই ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে হাত লাগান বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট। এদিন পাকিস্তানি তেল কোম্পানি ‘শেল’ কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডে গ্যাসক্ষেত্রগুলো কিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু। খুবই কম দামে এবং
কিস্তিতে ৫টি গ্যাসক্ষেত্র কিনেন বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৯ আগস্ট জ্বালানিখাতে ‘সৌভাগ্য শিখা’ প্রজ্জ্বলন করেন বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশের নিজস্ব মালিকানার ইতিহাস গড়লেন তিনি। পৃথিবীর সকল শক্তির উৎস ইতিহাস। বিশ্বে সেই ‘ইতিহাস শক্তি’ই জন্ম জনক বঙ্গবন্ধু। এই কাজটি করেছিলেন, তাকে হত্যার ঠিক সাতদিন আগে। সেদিন বঙ্গবন্ধু যে দুদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তাও এক স্মরণীয় ঘটনা।
একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জ্বালানি। শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে গৃহস্থালি সবকিছুই চলছে জ্বালানি শক্তির বদৌলতে। সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে সাশ্রয়ী
মূল্যে গ্যাস মিলছে বাংলাদেশে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে কোন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আর্থ-সামজিক উন্নয়নে পৃথিবী চমকে দিয়েছে, তার নজির আছে বলে মনে নেই।

বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নও একটা ইতিহাস। এই সময়ের মধ্যে সমৃদ্ধ জ্বালানিখাত ছাড়াও পদ্মা সেতু, নতুন করে রেললাইন ও স্টেশন নির্মাণ, পদ্মাসেতু ছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থার উত্থান, জলপথের উন্নয়নের পাশাপাশি নদীখননের কাজও এগিয়ে
চলছে। জলপথে প্রসার ঘটেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্যক্ষেত্রে। এসব কিছুই এসেছে জ্বালানি শক্তির হাত ধরে।

সরকারী হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশে ৩১টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে এবং সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ২০২১ সালে সিলেটের জকিগঞ্জে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হলো তিতাস
গ্যাসক্ষেত্র। এটি ১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিস্কৃত হয়। প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে।
তবে গ্যাসের উৎপাদন ক্রমে কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে বিপুল চাহিদার বিপরীতে চাহিদা পূরণে আমদানি বাড়াতে হচ্ছে এলএনজির। দাম বেশি হলেও যোগান ঠিক রাখতে আমদানি ধরে রাখতে হচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েই চলেছে এলপিজির দাম। কাজেই সহনীয় দামে

জ্বালানি সরবরাহ করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস।
বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট পরিপত্রের মাধ্যমে ৯ আগস্টকে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

এরপর থেকে প্রতিবছর এই দিন সরকার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটিতে আগে র্যালীসহ নানা অনুষ্ঠান করা হলেও এবার করোনার কারণে কয়েকটি ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।




















