প্রস্তাবিত তেতুলিয়া করিডোর : দূরত্ব কমাবে ৮৪ কিলোমিটার
- আপডেট সময় : ০৯:২৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ ৬৯২ বার পড়া হয়েছে
উদয়ন চৌধুরী/ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ
উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থার (কানেক্টিভিটি) উল্লেখযোগ্য উন্নতিলাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাঁচটি রেলপথ সংযোগ চালু রয়েছে। কানেক্টিভিটিতে ভারত ও বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে একথা ভারতের তরফে বার বার বলাও হয়ে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় বিরাজমান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একথা বলে থাকেন।
এমনকি বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকা সফরও করেছেন। শুধু তাই নয, বাংলাদেশের জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী, স্বাধীনতার সুনর্ণজয়ন্তী এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উৎসবে যোগ দিতে সর্বশেষ ১৫ ডিসেম্বর ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বাংলাদেশ সফর করেছেন। তিন দিনের সফরে এসে বাংলাদেশে ব্যস্ততম সময় পার করেন তিনি। এসময় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ভারতের বিদেশ সচিব রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকও ডাকেন। সেখানে তিনি দু’দেশের সম্পর্ককে সোনালী অধ্যায় বর্ণনা করেন বলেন, বাংলাদেশের যেকোন সমস্যায় ভারত পাশে থাকবে। কানেক্টিভি, টিকা, রোহিঙ্গা উত্যাদি প্রসঙ্গও ওঠে আসে সাংবাদিক বৈঠকে। হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এও বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের চিন্তায় বড় কোনো পার্থক্য নেই।
দুই দেশের সম্পর্কের যে সোনালি অধ্যায় চলছে, সেটিকে এগিয়ে নিতে আরও কীভাবে সহযোগিতা বাড়ানো যায় তা নিয়েই আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের বিদেশ সচিব মাসুদ বিন মোমেনের মতে দুদেশের চলমান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে তারা অগ্রসর হতে যেতে চান। শ্রিংলা মোমেন বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দু’দশের সড়ক ও রেলের পাশাপাশি নৌপথকে।
বাংলাদেশ-ভারত রেলসংযোগ উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মাধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণ্যিজের নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। জলপথ ও সড়ক পথের চেয়ে কম সময়ে রেলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ায় ব্যবসায়ী মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখয্য ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের আগে পর্যন্ত চালু ছিল এমন ছয়টির মধ্যে পাঁচটি রেলসংযোগ চালু রয়েছে। আগামী বছরের মধ্যেই অবশিষ্ট রেলসংযোগ চালু হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি আখাউড়া-আগরতলা নতুন রেলসংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে, যা আগামী বছর চালু হবে। চিলহাটি-হলদিবাড়ী রেলসংযোগ চালু হয়েছে গত বছর ডিসেম্বরে। অভ্যন্তরীণ নৌপথসহ পরিবেশবান্ধব মাল্টিমডেল কানেক্টিভিটির দিকে এগুচ্ছে উভয় দেশ।
ড. সালাহ্ উদ্দিন
বাংলাদেশের একটি গ্রুপ অব কোম্পানির প্রিমিয়ার সিমেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আধিকারীক ড. সালাহ্ উদ্দীনের ভাষায়, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বর্তমান রেল, সড়ক এবং নৌপথ সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে গতিশীল হচ্ছে, সড়ক ও রেলসংযোগ। করোনাকালীন সময়ে রেলপথ ব্যবহার করে পণ্যপরিবহনে সুফল মিলেছে। ড. সালাহ্ উদ্দীন মনে করেন, উত্তরপূর্ব ভারতের মধ্যে যে তিনটি রেলসংযোগ বর্তমানে চালুর জন্য কাজ চলছে, তা দ্রুত শেষ হলে এপথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। তিনি জানালেন, উত্তরপূর্ব ভারতে বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্যে চাহিদা বেশ। এরমধ্যে সিমেন্ট, ভোজ্যতেল, স্টিল সীটসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। ড. সালাহ্ উদ্দীন আরও জানান, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বর্তমানে ৫টি রেলসংযোগ রয়েছে। যার মধ্যে সর্বশেষ চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলসংযোগটি উন্মুক্ত হয়েছে। এপথে পাথর ও অন্যান্য পণ্য পরিবাহিত হচ্ছে।
কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে গেছে উল্লেখ করে ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, ১৯৬৫ সালের (পাক-ভারত যুদ্ধ) আগে চালু ছিল এমন ছয়টির মধ্যে পাঁচটি রেলসংযোগ পুনঃস্থাপন হয়েছে। তিনি আশা করেন ২০২২ সালের মধ্যেই অবশিষ্ট রেলসংযোগগুলো চালু হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি আখাউড়া-আগরতলা নতুন রেলসংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে, যা আগামী বছর চালু হবে। চিলহাটি-হলদিবাড়ী রেলসংযোগ চালু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথসহ পরিবেশবান্ধব মাল্টিমডেল কানেক্টিভিটির বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিকী ছবি
প্রস্তাবিত তেতুলিয়া করিডোর দূরত্ব কমাবে ৮৪ কিলোমিটার
প্রস্তাবিত বাংলাদেশের তেতুলিয়া করিডোর সংযোগপথটি সচল হলে মাত্র ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে। তাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া মহকুমাকে জলপাইগুড়ি ও ময়নাগুড়ির সাথে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে প্রায় ৮৪ কিলোমিটার পথ দূরত্ব কমবে। গতি পাবে উভয় দেশের বাণিজ্যে। এই করিডোরটি খোলার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারতীয় সরকারের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যতদূর জানা যায়, ভারত বিভাজনের পর থেকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র সংযোগ সড়ক হলো শিলিগুড়ি করিডোরের সরু পথ, যা ভূমিধ্বস প্রভৃতি সহসা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। ১৯৮০ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য চুক্তির অষ্টম ধারা অনুসারে, উভয় দেশের সরকার দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের জন্য একে অপরের জলপথ, রেলপথ ও সড়কপথ ব্যবহার করতে এবং এক দেশের সীমানার ভেতর দিয়ে অন্য দেশের পণ্য পরিবহনে সম্মত হচ্ছে।
তেতুলিয়া করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্ব ভারতের দূরত্ব ৮৪ কিমি (৫২ মাইল) পর্যন্ত কমিয়ে আনবে। এইভাবে এই অঞ্চলের বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি জলপাইগুড়ি জেলাকে প্রশাসনিক দিক দিয়ে রাজ্যের রাজধানীর সাথে দ্রুততর সংযোগ নিশ্চিত করবে।




















