প্রকাশ্যে এলো আনারের মরদেহভর্তি ব্রিফকেস সরানোর ভিডিও
- আপডেট সময় : ১১:২১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে
চিকিৎসার জন্য ভারতের কলকাতায় গিয়ে সঞ্জীভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনার। তাকে খুন করার পর মরদেহ ব্রিফকেসে করে সরানোর একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে দেখা যায়, ১৩ মে দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে সঞ্জীভা গার্ডেনের আলোচিত সেই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন সংসদ সদস্য আনার। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শিমুল ভূঁইয়া এবং তার সহযোগী ফয়সাল। ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে বেশ শান্তভাবেই দরজার বাইরের র্যাকে তার জুতা রাখেন। পরে ভেতরে প্রবেশ করেন আনার।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে আসেন শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ। এ সময় তার হাতে ছিল একটা লাগেজ। এরপর পলিথিনের ব্যাগ হাতে বের হন আরেকজন। এ সময় শিমুল দরজা দিয়ে লক করে দেন এবং লিফট দিয়ে নেমে তারা বের হয়ে যান।
এদিকে আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কসাই জিহাদ হাওলাদারকে আদালতে তোলা হয়েছে। শুক্রবার কলকাতার বারাসাত আদালতে তাকে তোলা হয়। এর আগে, আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জিহাদকে গ্রেফতার করে ভারতের সিআইডি।
গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাতে আনারের দেহাবশেষ উদ্ধারে জিহাদকে নিয়ে কলকাতা-সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙ্গড়-পোলেরহাট এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, জিহাদ হাওলাদার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং পেশায় তিনি কসাই। অবৈধভাবে মুম্বাইয়ে বাস করতেন তিনি। তার বাড়ি খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানায়। তার বাবার নাম জয়নাল হাওলাদার। জিহাদ হাওলাদারকে বারাসত আদালতে তোলা হবে। হত্যাকাণ্ডের তথ্যের খোঁজে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জিহাদকে হেফাজতে নেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, এমপি আনারকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আখতারুজ্জামানের কলকাতায় যাওয়ার দুই মাস আগেই জিহাদকে ডেকে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ স্বীকার করেছে, আখতারুজ্জামানের নির্দেশে তিনিসহ চারজন এমপি আনারকে ফ্ল্যাটে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পরে তার শরীর থেকে মাংস এবং হাড় আলাদা করা হয়। মূলত পরিচয় নষ্ট করার জন্য এমপির শরীরের মাংস আর হাড়গুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে তা প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা হয়।। পরে ঐ ব্যাগগুলো ফ্ল্যাট থেকে বের করে নানা ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে ফেলে দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বলছে, গত ১২ মে ভারতে যান সংসদ সদস্য আনার। এর অন্তত ১০ দিন আগেই কলকাতায় অবস্থান করেন অভিযুক্তরা। ছিলেন ধর্মতলার কাছে সদর স্ট্রিটের একটি হোটেলে। ঐ হোটেলের নথি অনুযায়ী, ২ মে থেকে সেখানে থাকছিলেন ফয়সাল এবং মুস্তাফিজুর নামে দুই ব্যক্তি। পরে মুস্তাফিজুরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।




















