পণ্য ট্রেন চালকের সিগন্যাল অমান্য, ভয়াবহ দুর্ঘটনা বাংলাদেশে
- আপডেট সময় : ০৯:৩৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৮৬ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
পণ্য ট্রেন চালকের সিগন্যাল অমান্য, ভয়াবহ দুর্ঘটনা বাংলাদেশে|
বাংলাদেশে ভয়াবহ ট্রেনদুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২০জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে
আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত প্রায় অর্ধশাতাধি। দুর্ঘনাকবলিত ট্রেনের বগীর নীচে মৃতদেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা
করা হচ্ছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মালবাহী ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল।
একইসময় ভৈরব থেকে ঢাকায় আসছিল যাত্রী ট্রেন এগারো সিন্ধুর। ভৈরব রেলস্টেশনের আউটার ক্রসিংয়ে
যাত্রীবাহী ট্রেনের শেষ দুই বগিতে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয় পণ্য ট্রেনটি। তাতে যাত্রী ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে
যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার
আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ভয়াবহ এ ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্ব বিভাগের চিফ অপারেটিং
সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহিদুল ইসলাম। সোমবার (২৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, কনটেইনারবাহী ট্রেনটি সিগন্যাল
অমান্য করে স্টেশনে প্রবেশ করায় এ দুর্ঘটনা হয়েছে।

শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মালবাহী ট্রেনটি সিগন্যাল অমান্য করে স্টেশনে ঢুকে পড়ে। যার কারণে
এ দুর্ঘটনা ঘটে। এরইমধ্যে চালক, সহকারী চালক এবং ট্রেনের পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি করেছে রেল বিভাগ। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন
জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকছে ঢাকার বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা।
সদস্য হিসেবে রয়েছেন, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার লোকোমেটিভ, বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ এবং বিভাগীয়
সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশলী। ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। কমিটির প্রধান রেলের
চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস) মো. শহিদুল ইসলাম। সদস্য চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাকির
হোসেন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার আরমান হোসেন, সিএসপি তুষার এবং চিফ মেডিকেল অফিসার আহাদ আলী সরকার।

ভৈরবে দুর্ঘটনা কবলিত এগারোসিন্ধুর ট্রেন
মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলিম হোসেন শিকদার জানাচ্ছেন, ঢাকা থেকে একটি কন্টেইনারবাহী
ট্রেন ভৈরব স্টেশনে ঢুকছিল। তার আগ মুহূর্তে ভৈরব থেকে এগারসিন্দুর ট্রেনটি ঢাকার দিকে রওনা হয়েছিল। জগন্নাথপুর রেল ক্রসিং
এলাকায় এগারসিন্দুর ট্রেনের শেষের দুই-তিনটি বগিতে কন্টেইনারবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন আঘাত করে। মূলত সিগনালের কোনো
জটিলতার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রাসেল শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন
করেছেন। ট্রেন দুর্ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম, সিলেট ও নোয়াখালীর রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।




















