নির্বাচনে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, তবে আইনের বাইরে নয়: সেনাসদর
- আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে পারে, তবে তা হবে সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ অনুসরণ করে এবং আইনের আওতার মধ্যেই। এমনটাই জানিয়েছেন সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার–এর আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনী কেন্দ্রের পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর অবস্থান কী হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সুনির্দিষ্ট রুলস অব এনগেজমেন্ট নির্ধারণ করা আছে। আইনের আওতায় থেকেই সেই নিয়ম অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করা হবে।
যদি বাস্তব পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ প্রয়োজন হয়, তবে রুলস অব এনগেজমেন্ট অনুযায়ী ধাপে ধাপে বলপ্রয়োগের মাত্রা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটের আগে বা পরে মব সহিংসতা হলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের হামলা ও মবের ঘটনা দেখা গেছে। বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সশস্ত্র বাহিনী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিতে সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচনের বাইরে থাকা একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আত্মগোপন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন হুমকির বিষয়ে সেনাবাহিনী কোনো নির্দিষ্ট থ্রেট পেয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা প্রতিরোধে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীও সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
নির্বাচনের আর এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকায় জনগণের মধ্যে সংশয় রয়েছে—এ বিষয়ে সরকারের কোনো ব্যর্থতা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সংশয় দূর করতেই সেনাবাহিনী প্রধান ব্যক্তিগতভাবে সব বিভাগে গিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
এর উদ্দেশ্য ছিল, একদিকে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে আস্থা দেওয়া এবং অন্যদিকে জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবসময়ই একটি সংবেদনশীল এলাকা। নির্বাচনকেন্দ্রিক সময় ছাড়াও সেখানে সেনাবাহিনীর মোতায়েন সার্বক্ষণিকভাবে থাকে। সম্ভাব্য সব ঝুঁকি সেনাবাহিনীর অ্যাসেসমেন্টের আওতায় রয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি উপজেলা ও ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্রভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে বিপুলসংখ্যক পেট্রোল একসঙ্গে মাঠে থাকতে পারবে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধেও সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচন চলাকালে সেনাবাহিনীর মোতায়নের পরও যদি নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে-সে বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনী। সেনাপ্রধান স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা হলে সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জনগণ সেই নিরপেক্ষতার প্রমাণ পাবে।
একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর নিজস্ব আইটি সিস্টেম সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
নির্বাচনের আগে ও পরে সেনাবাহিনীর নিজস্ব থ্রেট অ্যানালাইসিস রয়েছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট সেনাবাহিনীর কাজের অন্যতম প্রথম ধাপ। সেই অনুযায়ী মোতায়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সেনাসদস্যদের নন-লিথাল ওয়েপন ও রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে এবং নির্বাচন সামনে রেখে অতিরিক্ত রায়ট কন্ট্রোল সরঞ্জামও সংগ্রহ করা হয়েছে।



















