নির্বাচনী ইশতেহারে ১৫ সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৭:২২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে ১৫টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটি বলছে, নাগরিক সমাজ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা দেখতে চায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বিচার, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন ইশতেহারে স্পষ্টভাবে থাকতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার শীর্ষক সংলাপে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। এসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫, যা জনগণের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও বঞ্চনার বিপরীতে গড়ে ওঠা এক ধরনের সামাজিক চুক্তি। তাই দলগুলোর ইশতেহারে এই সনদ ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন ও সময়বদ্ধ অঙ্গীকার থাকা জরুরি।
সংলাপে উত্থাপিত ১৫টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে প্রথমেই জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানে তা তফসিল হিসেবে বা উপযুক্তভাবে সংযুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সনদের বৈধতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন না তোলা এবং এর বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সুজন আরও বলেছে, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক দমন–পীড়নের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে মানবাধিকারসম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার রূপরেখা ইশতেহারে থাকা প্রয়োজন। বিচার বিভাগসহ নির্বাচন কমিশন, পিএসসি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং দুর্নীতি দমন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।
এ ছাড়া ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়া হয়। সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং সংস্কারভিত্তিক ইশতেহার প্রণয়নের আহ্বানে একমত পোষণ করেন।



















