দ্রুত ওজন কমাতে জনপ্রিয় কিটো ডায়েট, তবে নারীদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি
- আপডেট সময় : ১১:০২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ২১৩ বার পড়া হয়েছে
(কিটো ডায়েট হলো এক ধরণের নিম্ন-কার্বোহাইড্রেট এবং উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাবার পরিকল্পনা, যা শরীরকে কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে শক্তি পেতে চর্বি পোড়াতে বাধ্য করে। এই ডায়েটের মূল লক্ষ্য হলো শরীরকে ‘কিটোসিস’ নামক একটি বিপাকীয় অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে লিভার চর্বি থেকে কিটোন বডি তৈরি করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ডায়েট ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং এর কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে, তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে)
চটজলদি ওজন কমাতে কিটো ডায়েটের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণ কমিয়ে প্রোটিন ও ফ্যাট বেশি খাওয়ার মাধ্যমে শরীরকে ‘কিটোসিস’ নামের বিশেষ মেটাবলিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই অবস্থায় শরীর শক্তির ঘাটতি মেটাতে দ্রুত মেদ গলাতে শুরু করে, ফলে অল্প সময়েই ওজন কমে। এজন্যই অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীও এই ডায়েট অনুসরণ করেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিটো ডায়েটের বেশ কিছু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলে প্রথম দুই–তিন সপ্তাহে মাথাঘোরা, ক্লান্তি, খিদে কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, ঘুম কমে যাওয়া, চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, মুখে দুর্গন্ধ, পেশিতে টান, কিডনিতে স্টোন, পেটের সমস্যা, আলসার এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নারীদের ক্ষেত্রে কিটো ডায়েট হরমোনাল ডিসব্যালান্স তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন এই ডায়েট অনুসরণ করলে ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়ে পড়া খুবই সাধারণ সমস্যা। উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং পুষ্টির ঘাটতি থেকেও এই সমস্যা বেড়ে যায়। পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক জানান, কিটো ডায়েট মূলত এপিলেপ্সি চিকিৎসার জন্য তৈরি হয়েছিল; দ্রুত ওজন কমা আসলে এর একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তার মতে, কিটো ডায়েট বন্ধ করার পর বেশিরভাগ মানুষই দ্রুত ওজন ফিরে পান। কারণ দীর্ঘদিন কার্বোহাইড্রেট না খাওয়ার ফলে শরীরে ভিটামিন-খনিজের ঘাটতি ও খাবারের প্রতি অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, যা মানসিক অবসাদও ডেকে আনতে পারে।
অনন্যার পরামর্শ, একান্তই প্রয়োজনে কিটো ডায়েট করতে হলে এক থেকে দুই মাসের বেশি করা উচিত নয়। এর বদলে লো-কার্ব ডায়েট নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। শুরুতে দিনে ২০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট নিয়ে ধীরে ধীরে কমানো ভালো। এতে শরীর পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পায় এবং ঝুঁকিও কমে।
সুতরাং, দ্রুত ফল পাওয়ার লোভে কঠোর কিটো ডায়েটে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ জরুরি। নইলে ওজন কমার বদলে শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তথ্য ইন্টারনেট



















