রাজধানীতে নারীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে আলাদা ‘নারী বাস সার্ভিস’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম-এর সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
নিরাপদ যাতায়াতে বিশেষ গুরুত্ব
প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো, যাত্রী ভোগান্তি কমানো ও সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। বিশেষ করে রাজধানীতে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবী নারীদের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রুটে নারী বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে রুট নির্ধারণ, ভাড়া কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত তদারকির পরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছে।
কেন এই উদ্যোগ
রাজধানীতে গণপরিবহনে নারীদের প্রতি হয়রানি, ভিড় ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলাদা নারী বাস সার্ভিস চালু হলে—
-
কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠলে যাতায়াত সহজ হবে
-
গণপরিবহনে যৌন হয়রানি কমবে
-
নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বাড়বে
-
পরিবারগুলো নারীদের চলাচল নিয়ে অধিক আস্থা পাবে
তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উদ্যোগের পাশাপাশি বিদ্যমান গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নজরদারি জোরদার করাও জরুরি।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাসের সংখ্যা, পরিচালনাকারী সংস্থা, চালক ও সহকারীদের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা, জিপিএস ট্র্যাকিং এবং নারী কর্মী নিয়োগের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
সমাধিস্থল সংস্কার নিয়েও নির্দেশনা
একই বৈঠকে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সমাধিস্থলের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ নিয়েও নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান। তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে আসন্ন রমজানের ঈদের আগেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্তকে একটি ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় এটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।















